সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮

১৫০টি ভোট কেন্দ্র দখল করে নৌকায় সিল মারা হয়েছে

ড. রেজা কিবরিয়া বলেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে কয়েকটি বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া ১৭৬টি ভোট কেন্দ্রে গতকাল সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিল অনেকটা কম। দুপুরের দিকে ভোটারের উপস্থিতি ভোট কেন্দ্রে বাড়তে থাকে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কসবা বাজে সুনাইত্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টেবিল কাস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। 
এ সময় ভোট কেন্দ্রের ভিতরে দুপক্ষের পোলিং এজেন্টের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৫ পোলিং এজেন্ট আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আহতরা হলেন, আওয়ামীলীগের এজেন্ট এমরান হোসেন, বিএনপির এজেন্ট ফবি আলম, এরশাদুল হক, মিজান মিয়া, হাসেম মিয়া, তাহের মিয়া, রুবেল মিয়া।
এদিকে পৌর এলাকার হীরামিয়া গালস হাই স্কুল, শেরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোস্তফাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, লোগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সৈয়দপুর বাজার ফাজিল মাদ্রাসা, রাজাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরগাঁও শেখ আমিনা বিবি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা সংঘটিত হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, ও পুলিশের টহল টিম এসব ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। অপর দিকে গঞ্জা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কায়স্থগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাইয়াপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাহিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুর্লভপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুবিরবাক-১, ভুবিরবাক-২ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পরবতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাপুর, জগন্নাথপুর, চৌকী ভোট কেন্দ্রে ধানেরশীষের কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি। তাদের অভিযোগ আওয়ামীলীগের লোকজন তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে।

এদিকে দুপুর ২টায় নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া বলেছেন, ভোট কেন্দ্রে সকাল থেকে দু ঘন্টা সুষ্ঠু ভোট হলেও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ভোটকেন্দ্র দখল করে সরকার দলীয় লোকজন। এক পর্যায়ে তারা ১৭৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টি ভোটকেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক এজেন্ট বের করে দিয়ে নৌকায় সিল মারেন, তারা এই নির্লজ্জ কাজ করবে তা কল্পনাই করতে পারিনি।একদিক থেকে ভালো করেছে সুক্ষ্ম কারচুপি করলে চোখে পড়ে না, তারা জঘন্যভাবে ভোট কেন্দ্রে দখল করে টেবিলে জোরপূর্বক সিল মেরেছে এটা সবাই দেখেছে, একটি ভোটকেন্দ্রে স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের ওসি নিজে কেন্দ্র দখল করে সিল মেরেছে। এভাবে সারাদেশেই ভোটকেন্দ্রে দখল ও কারচুপি হয়েছে। কুড়িগ্রাম-২ আসনে আম্সা আমিন জানিয়েছেন, তার এখানে সব ভোটকেন্দ্র দখল হয়েছে, নির্লজ্জ ভাবে যখন তারা ভোটকেন্দ্রে দখল করছিল তখন জনগণ অসহায় ভাবে তাকিয়েছিল, তাদের কিছুই করার নেই, বর্তমান সরকারের কাছে প্রশাসন ছিল অসহায় ।বাংলাদেশ সেনা বাহিনী মাঠে নামার পর আমরা ভেবেছিলাম পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয়নি, তাদেরকে বার বার ফোন করলেও তারা ফোন রিসিভ করেনি।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন বর্জন করবো কী না আমার নেতা ড. কামাল হোসেন জানাবেন।