শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮

কারামুক্ত হলেন শহিদুল আলম

নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের সময় উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় তিন মাস ধরে কারাগারে থাকা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট।তার জামিন প্রশ্নে এক মাস আগে অন্য একটি বেঞ্চের দেওয়া রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়ালও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।  এর আগে গত ৬ নভেম্বর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় শহিদুল আলম হাইকোর্টে পুনরায় জামিন আবেদন করেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।  রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, রুল মঞ্জুর করে তাকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন আদালত। এখন তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।
গত ২৯ অক্টোবর বিদেশি টিভি চ্যানেল আল জাজিরায় প্রচারিত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের বক্তব্য এবং ফেসবুক লাইভে প্রচারিত তথ্য-উপাত্ত চেয়েছিলেন হাইকোর্ট।  সে অনুসারে আজ ভিডিও আদালতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয়।
গত ৭ অক্টোবর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
গত ১৮ অক্টোবর দ্বিতীয় বারের মতো ড. শহিদুল আলম হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন আবেদন শুনতে বিব্রতবোধ করেন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ।
গত ১২ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ৬ আগস্ট রমনা থানায় করা মামলায় শহিদুলআলমের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন।
শহিদুল আলমকে ৬ আগস্ট বিকেলে আদালতে হাজির করে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি শহিদুল আলম তার ফেসবুক টাইম লাইনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে কল্পনাপ্রসূত অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণিকে শ্রুতিনির্ভর (যাচাই-বাছাই ছাড়া কেবল শোনা কথা) মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে উসকানি দিয়েছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর রূপে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন করেছেন।