শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৮

বাংলাদেশের তৈরি জ্যাকেটের মুল্য দেড় লাখ টাকা!!

সাইকুল ইসলাম কানাডা: কানাডার মার্কেটগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভীড়। শীত এসেছে। শীতের শুরুতে প্রচুর শীতের কাপড়ের বিক্রি হয় কানাডার মার্কেটগুলোতে। প্রতি বছর শীতের শুরুতে উইন্টার জ্যাকেট বিক্রি হয় প্রচুর। একেকটি শীতের জ্যাকেটের মূল্য বাংলাদেশী টাকায় দশ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড়-দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এই দামগুলো এখানে কমন দাম। কানাডার মার্কেটের চাহিদার শীর্ষে আছে ম্যাকিনলী, কানাডা গুঁজ, দ্যা নর্থ ফেইস, কলাম্বিয়া, কানুক, রাসকিন, জিরো পয়েন্ট,  জ্যাক এন্ড জোন্স, অক্সিজেন ব্রান্ড সহ অন্যান্য ব্রান্ড। এইসব নামী দামি ব্রান্ডের কাপড়গুলোর বিক্রির এখানে বেশী। বাংলাদেশে তৈরি দ্যা নর্থ ফেইসের একেকটি জ্যাকেটের মুল্য কত হতে পারে বলে মনে হয় আপনাদের? যদি বলি কানাডার মার্কেটে বাংলাদেশের তৈরি একেকটি জ্যাকেটের মুল্য ষাট-সত্তর হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ-দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত তাতে কি আপনারা গাবডে যাবেন? না গাবডাবেন না। দ্যা নর্থ ফেইস ব্রান্ডের দুটি জ্যাকেটের প্রথমটির মুল্য ৮৫০ ডলার, দ্বিতীয়টির মুল্য ৬৬০ ডলার।


১ ডলার= ৬৬ টাকা। এই জ্যাকেটগুলোর লগোর নীচে ছোট করে মেইড ইন বাংলাদেশ লেখা। এই জ্যাকেটগুলো সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশেই তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি এইসব জ্যাকেটগুলো দেখতে যে কত সুন্দর এবং পরতে যে কত কম্পর্টেবল এবং মার্কেটগুলোর বিক্রিতে যে কত কম্পিটেটিভ তা মার্কেটে ঢোকে বেচাবিক্রি না দেখলে বিশ্বাসই হবে না। দু:খ হয় শুধু এইটা ভেবে যে আমাদেরকে দিয়ে জ্যাকেট বানিয়ে একেকটি জ্যাকেট ষাট-সত্তর হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ-দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হয়। এই ব্রান্ড কোম্পানীগুলো বাংলাদেশের শ্রম দিয়ে বছরে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে আর এইসব জ্যাকেটের পিছনে আমার দেশের মানুষ দুশো, চারশো টাকায় সারাদিন পরিশ্রম করছে। অথচ চেষ্টা করলে বাংলাদেশীরা এখন আন্তর্জাতিক বাজারে আন্তর্জাতিক মানের নতুন নতুন ব্রান্ডের কাপড় ইন্ট্রডিউস করতে পারত। বাংলাদেশের ধনী, টাকাওয়ালা গার্মেন্টস মালিকেরা নিজস্ব ব্রান্ড চালু না করে কেন যে এখনও অন্ধকারে পড়ে থেকে অন্যের গোলামীতে জীবন পার করছে সে কথাটিই এখন আমার বুঝে আসে না আজকাল!!