রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮

সিলেটে অনুমতি মেলেনি, হবে ‘ঘরোয়া’ বৈঠক

সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ করার আবেদন দ্বিতীয় দফায় প্রত্যাখাত হয়েছে। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি।শনিবার বিকেলে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম মিঞা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় সমাবেশের অনুমতি দেয়া যাবে না বলে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে আবেদনকারী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদকে জানিয়েছেন।

তবে নবগঠিত এই জোটের নেতারা কৌশল পাল্টে ঘরোয়া বৈঠকে সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘হযরত শাহজালাল (রহ.), শাহপরানের (রহ.) মাজার ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এমএজি ওসমানীর কবর জিয়ারতের জন্য বুধবার সিলেট যাবেন ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এরপরই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে ঘরোয়া বৈঠক টাইপের কিছু একটা করা হবে। এটা করতে তো কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

সমাবেশের অনুমতি না পেলেও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারা একান্তে বসবেন। আর এ সকল বৈঠকের মাধ্যমেই আগামীর দিক-নির্দেশনা পৌঁছে দেয়া হবে। ‘ম্যান টু ম্যান’ যোগাযোগের মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্টের কার্যক্রমে গতি ফিরবে।

সিলেটে মাজার জিয়ারত ও সমাবেশ করে আনুষ্ঠানিক যাত্রা করার কথা ছিল নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। এজন্য সমাবেশের সম্ভাব্য তারিখও ঠিক করা হয়েছিল।

গত মঙ্গলবারের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ অনুমতি না দেয়ায় বাতিল করা হয়। এরপর আগামী ২৪ অক্টোবর সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করে ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু, দ্বিতীয়বারের মতো আবেদন নাকচ করে দেয়া হয়।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা আলী আহমদ বলেন, ‘আমরা আশাবাদী ছিলাম পুলিশ শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেবে। কিন্তু, দেয়নি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা ২৪ অক্টোবর সিলেট আসবেন। আমরা আশা করছি, তারা সমাবেশ না করলেও আমাদের সঙ্গে বসবেন এবং দিক-নির্দেশনা দেবেন।’

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম মিঞা বলেন, ‘সমাবেশ ঘিরে পুলিশ বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছে। এজন্য দ্বিতীয় দফাতেও ঐক্যফ্রন্টকে অনুমতি দেয়া হয়নি। পুলিশ কোনো সময়ই চায় না আইনশৃঙ্খলার অবনতি হোক।’

এদিকে, দু’দফা আবেদন নাকচ হওয়ার পর শুধু মাজার জিয়ারতেই ঐক্যফ্রন্টের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকবে— এটা মানতে নারাজ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল।

ক্ষমতাসীন এই জোটের নেতারা বলছেন, সমাবেশ করতে না পেরে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা একাধিক ‘গোপন’ বৈঠকে মিলিত হতে পারেন। এজন্য তারাও নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।