সোমবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৮

ইভিএম ব্যবহার নিশ্চিত না হয়েই বিপুল ব্যয়ের আয়োজন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমিতসংখ্যক আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) পাস হলেই কেবল সেটি সম্ভব। অথচ এর আগেই ইভিএমে ভোট গ্রহণ ও ফল ঘোষণার কাজে মোবাইল রেডিও কমিউনিকেশন সিস্টেম (ওয়াকিটকি) ব্যবহার করতে অতিরিক্ত দুই হাজার ৫২ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে ইসি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে সীমিতসংখ্যক আসনে ইভিএম ব্যবহার করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইসিও নির্বাচনে স্বল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহারের কথা বলে আসছে। অথচ সেই প্রতিষ্ঠানটিই প্রায় ২ হাজার কোটি টাকায় ৭৫ হাজার ইভিএম কেনার জন্য টাকা চেয়েছে। এই ইভিএম দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কেন্দ্র কভার করা যাবে। অর্থাৎ ৩০০ আসন ধরে হিসাব করলে প্রায় ৭৫টিতে ব্যবহার করা যাবে এই যন্ত্র।


অন্যদিকে যেখানে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের ঠিক নেই, সেখানে ফল ঘোষণার কাজে ওয়াকিটকি কেনার জন্যও অর্থ চেয়েছে ইসি।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারকে টাকা চেয়ে ওই চিঠি দেন ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। এতে বলা হয়, ‘আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমিতসংখ্যক আসনে ভোট গ্রহণ ও ফল ঘোষণার কাজে ইভিএম ও ওয়াকিটকি ব্যবহারের লক্ষ্যে মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫২ কোটি টাকা সংস্থান রাখার বিষয়ে আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

ইসির ওই চিঠিতে উল্লেখ আছে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ওয়াকিটকি ব্যবহারের লক্ষ্যে ইসি সচিবালয়ের আওতায় ‘ইউজ অব ডিজিটাল মোবাইল রেডিও কমিউনিকেশন সিস্টেম (ওয়াকিটকি) ইন ইলেকশন’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি গ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়, ইসি সচিবালয়ের ‘নির্বাচন ব্যবস্থায় তথ্য প্রযুক্তি প্রয়োগের লক্ষ্যে ইভিএম ব্যবহার’ শীর্ষক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে (জিওবি) ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।

এতে আরও বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক অনুদান (চীন সরকারের অনুদান) পাওয়ার জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ চিঠি দিয়েছে চীনা দূতাবাসে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বৈদেশিক অনুদানের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারকে অর্থায়ন করতে হবে প্রাক্কলিত প্রায় ৫৩ কোটি টাকা।

এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইভিএম কেনার প্রকল্প পাস হওয়ার পরে অর্থ ছাড় করার জন্য এমটিবিএফতে আমাদের বরাদ্দ লাগবে। বরাদ্দের পরিমাণ হলো ২ হাজার কোটি টাকা। এই বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সচিব একটা চিঠি দিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়কে।’

রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ইভিএম কেনার প্রকল্পের টাকা সংস্থান করার জন্য এমটিবিএফের যে সিলিং (সর্বোচ্চ সীমা) থাকবে, সেই সিলিংয়ের বাইরে একটা টাকা খরচ করার অধিকার নাই। ইভিএম প্রকল্পের টাকায় এমটিবিএফে যে বরাদ্দ আছে, সেই বরাদ্দ থেকে ৫৩ কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ আছে, যেটা আমরা খরচ করতে পারব। কিন্তু আমার দরকার হবে দুই হাজার কোটি টাকা, ৫০ শতাংশ আমরা যদি ইভিএম কিনি।’