শনিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৮

পদ্মার পানি নগরবাসীকে সরবরাহ করবে রাজশাহী ওয়াসা

রাজশাহী নগরবাসীর সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাজশাহী পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা)। এজন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনও দেয়া হয়েছে।
বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য চার হাজার ১৫০ কোটি টাকার ‘রাজশাহী ওয়াসা ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি বৃহস্পতিবার একনেকে পাস হয়। এ প্রকল্পের আওতায় পদ্মার পানি বিশুদ্ধ করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে রাজশাহী নগরীতে সরবরাহ করা হবে।

নগরীর ছাড়াও জেলার গোদাগাড়ী, কাটাখালি এবং নওহাটা পৌরসভার বিপুল সংখ্যক মানুষ পাবেন আয়রন ও কেমিক্যালমুক্ত নিরাপদ পানি।
রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুলতান আবদুল হামিদ জানান, ‘গত ১১ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন হয়। পরে একনেকেও প্রকল্পটি পাস হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রাজশাহীর পানির সমস্যা আর থাকবে না। পাশাপাশি ভূ-উপরস্থ পানি শোধন করে পানযোগ্য করে তোলার কারণে  ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপরেও চাপ কমবে।’
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে এ প্রকল্পের খসড়া সম্পন্ন করা হয়। পরের বছর চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে এ নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। নানা কারণে প্রকল্পটি আর এগোয়নি। তবে প্রকল্পটি দ্রুত পাস করতে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এবং সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। অবশেষে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখল।
চীনের একটি ব্যাংকের অর্থায়নে এ পানি শোধনাগার নির্মাণ করবে রাজশাহী ওয়াসা। সেটি স্থাপন করা হবে রাজশাহী নগরী থেকে প্রায় ২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ী উপজেলার সারেংপুরে।
সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি এনে নগরী ও এর আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হবে।
রাজশাহী ওয়াসার পানির পুরোটিই এখন ভূ-গর্ভস্থ। তাই পানির স্তরের কারণে পানিতে আয়রনসহ কিছু ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে। এগুলো কোনোভাবেই বিশুদ্ধ করা যাচ্ছে না। তাই ভূ-গর্ভস্থ পানি ছেড়ে উপরস্থ পানি শোধন করে নগরবাসীকে সরবরাহ করতে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল ওয়াসা।
তাছাড়া রাজশাহী অঞ্চলে প্রতিনিয়ত পানির স্তর নিচে নামছে। পদ্মা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে বিশুদ্ধ করা হলে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি সবার কাছেই বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুলতান আবদুল হামিদ জানান, প্রকল্পের টাকা দিয়ে শোধনাগার স্থাপন ছাড়াও ভূমি অধিগ্রহণ এবং নতুন পাইপলাইন বসানো হবে। পুরনো পাইপলাইনগুলোও নতুন করে স্থাপন করা হবে। নির্মাণ করা হবে নতুন একটি দশতলা ভবনও। প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় চার বছর। এরপর নগরীতে আর পানির কোনো সংকট থাকবে না।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনভূক্ত এলাকার জন্য ২০১০ সালের ১ আগস্ট ওয়াসা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছরের ১০ মার্চ থেকে রাজশাহী ওয়াসার কার্যক্রম চলছে। এখন নগরীর ৩০ ওয়ার্ডের ১০৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৭৬টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করে ওয়াসা।
সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষে পুরো নগরীর মানুষ ওয়াসার পানির সুবিধা পাবেন।
সূত্রঃ ঢাকাটাইমস