শনিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৮

বান্দরবানে ৩ বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

(ইউএনবি) বান্দরবানের লামা উপজেলার বনফুর ক্যাম্প বিজিবির তিন সদস্যের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির দুই আদিবাসী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।গত ২২ আগস্ট, বুধবার রাতের এ ঘটনায় ২৪ আগস্ট, শুক্রবার লামা থানায় বিজিবির তিন সদস্যসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার জানান, বিষয়টি অতি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।মামলা সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে রাংগতি ত্রিপুরা পাড়ার বলিচন্দ্র ত্রিপুরার স্ত্রী জনেরুং ত্রিপুরা একই পাড়ার দুই শিশুকে বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচশ গজ দূরে জঙ্গলে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক রবিউল ইসলামের সহায়তায় বিজিবি সৈনিক সুমন ও মারুফ তাদের ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের সহায়তাকারী হিসেবে জনেরুং ত্রিপুরাকেও আসামি করা হয়েছে।

শিশু দুটির পরিবার এবং লামা উপজেলা ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের সভাপতি নেলসন ত্রিপুরা বলেন, ধর্ষণের শিকার শিশুরা ভয়ে সারা রাত জঙ্গলে আত্মগোপন করে ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তারা বাড়ি গিয়ে ঘটনা জানালে অভিভাবকরা বিষয়টি স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে জানান।
বিষয়টি মীমাংসা করতে বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার বনফুর বাজারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে ধর্ষণের শিকার দুই শিশু ও তাদের অভিভাবক থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আপ্পেলা রাজু নাহা জানান, বনফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
শুক্রবার সকালে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাদের বর্তমানে পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালের কেবিনে রাখা হয়েছে।
অবশ্য ঘটনাটিকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ আখ্যায়িত করে বিজিবি-১১ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লে. কর্নেল আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, এজাহারে অভিযুক্ত তিনজনের নামের সঙ্গে বনফুর ক্যাম্পে কর্মরত কোনো বিজিবি সদস্যের নামের মিল নেই।
বিজিবি কমান্ডারের দাবি, একটি মহল অনেক দিন ধরে ক্যাম্পটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল। এই ঘটনা সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।
সূত্র:প্রিয়