শনিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৮

সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ ৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক ৩০ জন

আমিনুল হক, সুনামগঞ্জ :সুনামগঞ্জ জেলার  সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ । কলেজে সমস্যার অন্ত নেই। কলেজে অনার্স মাস্টার্স কোর্স চালু থাকলেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিতয়তার মধ্যে সময় ক্ষেপন করছেন। শিক্ষক , ক্লাস রুম সংকটসহ, ক্যান্টিন, কমনরুম এর সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। লাইব্রেরীতে প্রয়োজনীয় বইয়ের অভাবে শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরীমুখী হচ্ছে না। শিক্ষার্থীর তুলনায় প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ছেন। কলেজ সুত্রে জানা যায়, ৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ৩০জন শিক্ষক। যেখানে ডিগ্রী লেভেল পর্যন্ত শিক্ষকের প্রয়োজন ৫৪ জন। অথচ ৪টি বিষয়ে মাস্টার্স চালু হলে অন্তত ৪৮ জন শিক্ষক, অনার্সের ৬ বিষয়ে ৭জন করে ৪২জন শিক্ষক, নতুন আরও তিন বিষয়ে অনার্স চালুর প্রক্রিয়াধীন শেষ পর্যায়ে শিক্ষক প্রয়োজন ২১জন। সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজে শিক্ষক থাকার  ১২০জন শিক্ষকের প্রয়োজন। 


আছেন মাত্র ৩০ জন এবং ৪জন শিক্ষক মন্ত্রনালয় থেকে পোষ্টিং করা হয়েছে। তারা শিগ্রই যোগদান করলে শিক্ষকের সংখ্যা দাড়াবে ৩৪জন। শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া হাওরাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের এই অবস্থায় শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে অভিভাবকরা সন্দিহান হয়ে পড়ছেন ? ক্লাসের জন্য প্রতি ঘন্টায় ৩৪টি কক্ষের প্রয়োজন। আছে মাত্র ১৬টি কক্ষ। তার সাথে মেয়েদের জন্য কমন রুমের ভাল ব্যবস্থা নেই। ক্লাস ছুটির পর শিক্ষার্থীদের সময় কাটানোর জায়গা না থাকায় ঝুঁকে পড়ছে নানান সামাজিক  অপরাধমুলক কর্মকান্ডে। অনেকে জড়িয়ে পড়ছেন মাদকের সাথে। যা শিক্ষকদের পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অথচ প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সরকারী কোষাগারে জমা হচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা।  ক্যান্টিন না থাকায় শিক্ষার্থী নাস্তা কিংবা  খাবারের জন্য কলেজের বাহিরে গিয়ে অবস্থান করছে। বহিরাগতদের সাথে তৈরী হচ্ছে তাদের বন্ধুত্ব। এ দিকে মহিলা হোস্টেল থাকলেও শিক্ষার্থীরা পরিবেশের অভাবে সেখানে থাকতে চাচ্ছে না। ছেলেদের জন্য দুটি ছাত্রাবাস থাকলেও সংস্কারের অভাবে শিক্ষার্থীদের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের গুণগত মান বজায় রেখে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারছেন না কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের কয়েকটি ভবন থাকলেও সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ন অবস্থায় পড়ে আছে। । কলেজের অধ্যক্ষ নীলিমা বলেন, অধ্যাপক তারেকসহ বেশ কয়েকজন অধ্যাপক, অধ্যাপিকার সাথে আন্তরিকতার সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করি। নীলিমা ম্যাডাম খুব সুন্দর ভাবেই কলেজ পরিচালনা করছেন। প্রয়োজনীয় কক্ষের অভাবে, শ্রেণীকক্ষের অভাবে কলেজ পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 
বর্তমান সরকারের অনেক নেতাকর্মী আছেন যারা একটু চেষ্টা করলে শিক্ষক ও ক্লাস রুমের সংকট দুর করা সম্ভব। আমি এখানে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগাদানের পর মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীসহ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে কলেজের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে জানিয়েছি দ্রæত শিক্ষক সংকট দুর করতে এবং এখানে অনেক বেশী শিক্ষক পোষ্টিং দিতে। 
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্র নেতা সামিয়ান তাজুল খান বলেন কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য কোন ক্যান্টিনের ব্যাবস্থা না থাকায় কলেজের ছাত্রদের একমাত্র ভরসাই গাছতলা। একটিমাত্র ক্যান্টিনে  ছাত্রীদের জায়গা হয়না বিধায়, যত্রতত্র তারা বিচরণ করে সময় কাটায়। আমাদের দাবী জেলার একমাত্র কলেজের স্বচ্চতা ও সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পাবে। যখনই কতৃপক্ষ এর প্রতি সুনজর দিবেন। কলেজ শিক্ষার্থী আলাউর রহমান বলেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজের সু-শৃংখল পরিবেশ না থাকায় থমকে যাই, কে ছাত্র কে বহিরাগত এ নিয়ে অনেকটা বিপাকে পড়তে হয়। কলেজের সার্বিক দিক বিচনা করে কলেজেকে সমৃদ্ধ করতে কতৃপক্ষের সু দৃষ্টি কামনা করি।