শুক্রবার, ৩ আগস্ট, ২০১৮

সময় এসেছে বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন ভাবে ভাবার, নতুন ভাবে স্বপ্ন দেখার...

মোঃ সাইকুল ইসলাম,মন্ট্রিয়াল, কানাডা:সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু দেখতে দেখতে জাতি আজ অতিষ্ট। প্রতিদিন রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চলে, মানুষ মরে। কিন্তু এ থেকে পরিত্রানের কথা কেউ চিন্তা করে না। বাংলাদেশের বিভিন্ন সডকে যখন গাড়ি এক্সিডেন্ট হয় তখন একই পরিবারের পাঁচ জন, সাত জন, এমনকি দশ জন করে মানুষ নিহত হয়। এ নিয়ে সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকেও একটি শব্দ বলতে শোনা যায় নি। কোথাও মিটিং হলে উনি শুধু আওয়ামীলীগের গুনগান শোনতে ভালবাসেন। রাত পোহালেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ নিহত হয়।


কিন্তু এ নিয়ে সরকারের উচ্চপদস্থ কাউকেও কখনো কথা বলতে শোনা যায় নি। সরকারী টাকায় প্রতিদিন সচিবালয়ে বড় বড় আলোচনা, মিটিং ও সভার আয়োজন করা হয়। আখনি, পোলাও এবং বিরিয়ানি খাওয়ার বন্দোবস্ত হয় কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণের কোন আলোচনা এসব মিটিংয়ে স্থান পায় না। কি আজব দেশ বাংলাদেশ! ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যায়, অনিয়ম আর অনাচারে দিন দিন ছেয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
      নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

রাজনীতির ছত্রছায়ায় বেডে ওঠা ছাত্রলীগ, যুবলীগের নানা কর্মকান্ডে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ইমেজ বারবার প্রশ্নের সম্মুখীন হলেও ইদানিং পুলিশলীগের কর্মকান্ডে বিশ্ববাসী সত্যিই অবাক। যারা রাজনীতি করে মতবিরোধের কারনে তারা অন্য দলের সাপোর্টারের সাথে মারামারি করতে পারে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ইদানিং পুলিশ যেভাবে আওয়ামীলীগের লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিনত হয়েছে তাতে আওয়ামীলীগের ধ্বংস অনিবার্য। বিএনপি সরকারের আমলে পুলিশরা ঠিক একই কায়দায় বিএনপি সরকারের মেরুদন্ডটিও ভেঙ্গে দিয়েছিল। আজকাল বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বাংলাদেশ সরকারের উর্ধতন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী সহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নানান স্বেচ্ছাচারিতার যে খবর প্রকাশ পাচ্ছে তাতে আওয়ামীলীগ তথা শেখ হাসিনা সরকারের বিপদ সংকুল দিনই ঘনিয়ে আসছে বলে মনে হচ্ছে। রাত পোহালেই এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আওয়ামীলীগের হাতে নানান জনের লান্চিত হওয়ার খবর বেরুয়। গতকাল তো যুবলীগের লাঠিসুটা নিয়ে হাই স্কুল পডুয়া ছাত্রছাত্রীদের উপর বেধড়ক পিটুনির ভিডিও সহ খবর বেরুল। বাংলাদেশে এখন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যে যেদিকে পারছে সেদিকেই শুধু দেশটাকে দখল করে গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে। একজন শেখ হাসিনা আর কতদিন একা স্রোতের প্রতিকুলে দাঁডিয়ে এত বড় বিশাল মলম পার্টির লাগাম টেনে ধরবেন! আর কতই বা তিনি একে ওকে নাম ধরে ডেকে শাসন করবেন। ৩৬০ আওয়ামীলীগার এমপির কতজনের কর্মকান্ডই বা তিনি মনিটরিং করবেন। সরকারের বড় বড় লোক স্বয়ং এমপি-মন্ত্রীর গাড়ীর ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই! বুঝুন অবস্থা দেশ কোথায় আছে! পুকুরের তলায় কিছু হারালে খুজোখুজির আশা করা যায় কিন্তু সাগরের তলায় কিছু হারালে সেটা খুঁজাখুজির চিন্তা করাও বোকামি। বাংলাদেশটাই এখন সাগরের তলায় হারিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ রাস্তায় ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করবে, তার পরিবর্তে এখন ছাত্রদেরকে রাস্তায় দাঁডিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করতে হচ্ছে। খালেদা জিয়া খুব ভাল, সৎ এবং বিচক্ষণ একজন রাষ্ট্র শাসক ছিলেন। কিন্তু তার ছেলেপুলে সহ মাত্র গোটা কয়েক জন লোক তাকে গিলে খেয়ে কান টেনে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে আজ তাকে জেলের ভাত পর্যন্ত খাওয়াচ্ছে। ১০০ মাইল বেগে ছুটে চলা একটি ট্রেন সাধারন একটি স্লিপারের ইস্পাতের জোডায় স্টাক হয়ে গিয়ে যদি রেললাইন ছেড়ে ৫০ মিটার দূরে গিয়ে ছিটকে পড়তে পারে তাহলে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতানেত্রীর স্বেচ্ছাচারিতা ও পুলিশী আগ্রাসী মনোভাবের কারনে এই আওয়ামীলীগই কি একদিন বাংলাদেশ ছেড়ে দুশো মাইল দুরে গিয়ে আছড়ে পডবে না বলে মনে করেন? পৃথিবীর কোথাও রাজনীতির হাওয়া বদলাতে একদিন সময়ও লাগে না। ইদানিং আওয়ামীলীগ কোটা আন্দোলনকারীদের কথা দিয়ে কথা না রাখা সহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার যে অপব্যবহার করেছে তাতে এই আওয়ামীলীগই একদিন ক্ষমতা ছেড়ে ১০০ মাইল দূরে গিয়ে যে ছিটকে পড়বে না তারই বা কি বিশ্বাস আছে? উল্লেখ্য যে, শেখ হাসিনাই বা তৃনমুল আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে আর কতই বা ঘাটাঘাটি করবেন! শেখ হাসিনার আশেপাশে আজকাল বিভিন্ন ধরনের শকুনের যে দলগুলো ঘাপটি মেরে বসে আছে সেগুলোর হিসেবই বা ক’জন রাখে? এ হিসাব তো খোদ আওয়ামীলীগ নিজেই জানে কি না সন্দেহ আছে। সুযোগ পেলে এই ঘাপটি মেরে বসে থাকা আওয়ামীলীগাররাই বিদেশের সাথে হাত মিলিয়ে শেখ হাসিনাকে যে টেনে মাটিতে নামাবে না তার গ্যারান্টিই বা কে দেবে? ইদানিং বাংলাদেশে কোন কিছু ঘটলেই চামচারা শেখ হাসিনাকে প্ররোচিত করে তাঁকে দিয়ে মিডিয়ার সামনে মনগড়া বক্তব্য দেওয়ায়। এই ওঁত পেতে থাকা শকুনরা কিন্তু খুবই সতর্ক এবং খুবই ডেজ্ঞারাস একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এরা আজ আওয়ামীলীগার তো কাল অন্য দলের লীগার। এদের স্বভাবই হলো খাল কেটে কুমির ডেকে এনে নিজেকে নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সিটকে পড়া। আজকাল সরকারের উঁচু পদে বসে দুর্ঘটনায় নিহত মানুষদের নিয়ে হাসাহাসি করতেও সরকারের মন্ত্রী এমপিদের একটু বিবেকে বাঁধে না। সত্যিই অসাধারন মনমানসিকতার একটি দেশে জন্মেছি আমরা। বড় আশার কথা হল বাংলাদেশের স্কুল পডুয়া শিশু কিশোররা কিন্তু এ ব্যাপারে খুবই সচেতন। ইদানিং স্কুল পডুয়া ছাত্রছাত্রীদের স্বত:স্ফুর্ত আন্দোলন দেখে খুব খুশি হয়েছি। এ আন্দোলন দেশবাসীকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সময় মত কেউ একদিন আন্দোলনের ডাক দিলে আমরা বদলাতে পারব বলে বিশ্বাস হচ্ছে আমার। এতদিন বদলানোর আশা করাটাই ছিল কল্পনার অতীত। আজ যারা স্কুল কলেজে পড়ছে তারা যখন বড় হবে তখন দেশ বদলাবেই। এতদিন মনে হত শেখ মুজিবুর রহমান, মেজর জিয়াউর রহমান, হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিকল্প কাউকে হয়ত আমরা কোনদিন পাব না। কিন্তু বিগত এক সপ্তাহের আন্দোলনে বুঝা গেল ভবিষ্যত বাংলাদেশের নেতৃত্ব লোকিয়ে আছে আমাদের স্কুল কলেজ পডুয়া ছেলেমেয়েদের সুপ্ত মনে। এই সুপ্ত নেতৃত্বের মানুষগুলো বড় হচ্ছে আমাদের দৃষ্টির অগোচরে। হয়ত এরা বড় হচ্ছে, স্বপ্ন দেখছে, হয়ত বা হাই স্কুলের গন্ডি পেরুনোর মাটে এদের ডালপালাও মেলতে শুরু করেছে। হয়ত খুব শীঘ্রই এ ডালপালাগুলো আমাদের দৃষ্টিগোচর হবে। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মুক্তির ডাক নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে হয়ত এদের কেউ একদিন জনসম্মুখে আত্মপ্রকাশ করবে। সেদিন হয়ত আর খুব বেশি দূরে নয়। বাঙ্গালী জাতি একদিন এই অন্যায়, অনিয়ম, অনাচার ও অস্বচ্ছ রাজনীতির হাত থেকে মুক্ত হবেই হবে। আমরা ১৬ কোটি মানুষ ঝুকিপুর্ন সড়ক, অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির হাত থেকে একদিন মুক্তি পাবই পাব ইনশাআল্লাহ।


এই ছাত্রছাত্রীরাই আমাদের ভবিষ্যত আশা, আকাঙ্খা ও স্বচ্ছ সুন্দর রাজনীতির পথিক।