রবিবার, ৫ আগস্ট, ২০১৮

শিক্ষার্থীদের আজকের ধর্মঘট প্রত্যাহার

দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা তাদের সড়ক অবরোধ আজকের মতো তুলে নিয়েছেন। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তারা এ অবরোধ তুলে নেন।তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, নয় দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল সকাল ১১টায় তারা ফের শাহবাগে এসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।এর আগে (আজ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এসময় লাইসেন্স না থাকায় তারা একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে ওই সড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সাধারণ জনগণ পড়েন চরম দুর্ভোগে। অনেককে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাইন্সল্যাব এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা দুপুরে শাহবাগে অবস্থান নেন।

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী মাইকে বলতে থাকেন, ছোট ভাইরা আমাদের মাঝে দাঁড়াও। আমরা তোমাদের চারপাশে দাঁড়াবো। তোমাদের গায়ে আঘাত আসার আগে আমাদের গায়ে লাগবে।

ঢাবির শিক্ষার্থীরা মাইকে আরো বলতে থাকেন, আমাদের বিশ্বাস আছে পুলিশের ওপর। তারা আমাদের তাদের সন্তানের মতো আগলে রাখবেন।

এসময় লাইসেন্সবিহীন একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা।

তখন ঢাবির শিক্ষার্থীরা মাইকে ঘোষণা দেন, তোমরা বাস ভাঙচুর করো না- একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে এসে আমরা আরেকটা অন্যায় করতে পারি না।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় অবস্থান নেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা। এসময় তাদের সাথে যোগ দেন বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এরপর মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ হয়ে সাইন্সল্যাব এলাকায় অবস্থান নেন। এসময় তাদের সাথে যোগ দেন সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ, শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফার্মগেট থেকে শিক্ষার্থীরা সাইন্সল্যাব এলাকায় যাওয়ার সময় সরকারি বিআরটিসি বাসসহ সকল গণপরিবহন ও চালকদের লাইসেন্স আছে কি না তা চেক করেন। এসময় মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের গাড়িও আটকে দেন শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে বাংলামোটর এলাকায় নৌ মন্ত্রণালয়ের একটি গাড়ি আটকে গাড়ির লাইসেন্স আছে কি না তা জিজ্ঞাসা করেন শিক্ষার্থীরা। লাইসেন্স আছে জানালে তারা গাড়িটি ছেড়ে দেন।

এর আগে সোনারগাঁওয়ের সামনে একটি মন্ত্রীর গাড়ি আটকে দেন শিক্ষার্থীরা। এসময় নিরাপত্তা কর্মীরা বের হয়ে মন্ত্রীর গাড়ি বললে ছেড়ে দেন তারা।

সেখান থেকে শাহবাগে অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের পুলিশ বাধা দেয়। এসময় অনেক পুলিশকে হাত জোর করে আন্দোলন থামানোর জন্য অনুরোধ করতে দেখা গেছে।

এরপর সেখান থেকে তারা সাইন্সল্যাব এলাকায় পৌঁছে অবস্থান নেয়। এসময় তারা স্লোগান দিতে থাকে ‘আমার মায়ের কান্না আর না আর না।