রবিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৮

শাহী ঈদগায় কোরবানির পশুর অবৈধ হাট উচ্ছেদ

শাহী ঈদগাহ এলাকায় দলদলি চা বাগানের রাবার বাগানের মধ্যে বসানো অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে অভিযান চালিয়ে প্রথমে হাট সরিয়ে নিতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে হাট না সরানোয় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই হাট উচ্ছেদ করে সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজাম মুনীরা অভিযানে নেতৃত্ব দেন। অভিযানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
জানা যায়, গতকাল শুক্রবার শরহতলির দলদলি চা বাগানের রাবার বাগানের মধ্যে রাতারাতি পশুর হাট বসায় একটি চক্র। বাগানে খোঁড়াখুঁড়ি করে এ হাট বসানোর ফলে ধ্বংসের মুখোমুখি হয়ে পড়েছিল বাগান। বাগান বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুসারে চা বাগানের মধ্যে পশুর হাট বসাবাগানের মধ্যে ট্রাক চলাচলে হুমকির মুখে পড়ে পরিবেশ। বাগান বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুসারে চা বাগানের মধ্যে পশুর হাট বসানোর নিয়ম নেই। 


এছাড়া সরকারি এই চা বাগানে পশুর হাট বসাতে জেলা প্রশাসন থেকে যে অনুমোদন দরকার, তাও ছিল না ওই হাটটির। বিষয়টি অবগত হয়ে অভিযান চালায় সদর উপজেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজাম মুনীরা বলেন, সদর উপজেলায় ৫টি হাট ইজারা দেয়া হয়েছে। এর বাইরে যে কোন হাটই অবৈধ। অবৈধ হাটের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
এদিকে, লাক্কাতুরার বড়শালা নতুন বাজারে একটি অবৈধ হাট বসানোর চেষ্টাকালে পুলিশের বাধায় তা পন্ড হয়ে গেছে।
বিমানবন্দর থানার ওসি গৌছুল হোসেন জানান, একটি চক্র অবৈধ হাট বসানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তা পন্ড করে দিয়েছে।
গরুর কারবারিদের হাটে জায়গা করে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিদিন ২ লাখ টাকা করে শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০ লাখ টাকা চুক্তিতে এই হাট বসানো হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষই টাকা নিয়ে বাগানের ভেতর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে।
এ ব্যাপারে দলদলি চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মাহবুবুল আশরাফ বলেন, আমরা এই হাট ইজারা দেইনি। তিনি এ ব্যাপারে লাক্কাতুরা চা-বাগানের ব্যবস্থাপকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
লাক্কাতুরা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক আশরাফুল মতিন চৌধুরী বলেন, আমরা ইজারা দেইনি, ইজারা কর্তৃপক্ষ দিয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান বলেন, কোনো অনুমতি ছাড়াই চা বাগানের ভেতরে পশুর হাট বসানো হয়েছে। বাগানের জমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করতে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তারপরও কিভাবে হাট বসলো তা জানাতে লাক্কাতুরা বাগান কর্তৃপক্ষকে নোটিশ করা হবে।