বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮

শাহজালালে ইমিগ্রেশন পুলিশের গাফলতি, ফ্লাইট মিস সিলেট যাত্রীর!

গতকাল বুধবার রাত ১১ টা ৫ মিনিটের মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ধরে ভিয়েতনাম বেড়াতে যাচ্ছিলেন সুমন আহমেদ জিতু। সঙ্গে ছিলো পর্যাপ্ত ডলার, ভিসা স্টিকার ও বিল পরিশোধসহ হোটেল বুকিং ও ১৯ জুলাই যে ফেরত আসবেন তার রিটার্ন টিকিটও।এরপরও শাহজালাল বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটকে দেয়। কারণ ব্যাখা না করে ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার পর তাকে বলা হয় ‘সন্দেহজনক’মনে হয়েছিল। বুধবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯ টা থেকে মধ্যরাত ১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। তিনিই একমাত্র ভিয়েতনামগামী যাত্রী ছিলেন ওই ফ্লাইটে। একই ফ্লাইটের আরও ৭ থেকে ৮ জনকে ইমিগ্রেশন পার হতে দেওয়া হয়নি। এরা স্টুডেন্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যেতে চাচ্ছিলেন।


সুমন অভিযোগ করেন, তাকে বিনা কারণে মালয়েশিয়াগামী স্টুডেন্টভিসার যাত্রীদের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে অযথা সময় ক্ষেপণ করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারত। কিন্তু তা না করে অপেক্ষায় থাকতে বলা হয়। এদিকে ফ্লাইটের সময় ঘনিয়ে আসে। পরে পাসপোর্ট ফেরত চাইতে গেলে সুমন দেখেন যে ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তা তাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন তিনি ডিউটি শেষে চলে গেছেন। পাসপোর্ট তখন টেবিলেই পড়ে আছে।

এরপর ইমিগ্রেশন পুলিশের ডিউটিতে আসেন অফিসার ইনচার্জ শরিফুল। শরিফুল জানান, ‘আমার আগের শিফটে যিনি ছিলেন তিনি হয়তো প্রশ্ন করেছেন; সঠিক উত্তর দিতে না পারায় সুমনের ‘যাতায়াত স্থগিত’ করে চলে গেছেন। তবে সুমন জানান তাকে কোনো প্রশ্ন করা হয় নি। অযথা সময় ক্ষেপণ করে ডিউটি শেষে পাসপোর্ট রেখে ওই পুলিশ চলে যায়।

সুমনের এমন অভিযোগে শরিফুল জানান, মানব পাচারের শিকার হতে পারে এমন আশংকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ যাতায়াত স্থগিত করতে পারে। কাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ওই অফিসার আবার ডিউটিতে আসবেন তখন যাত্রী যোগাযোগ করতে পারেন। এয়ারপোর্ট সূত্র জানায়, এরকম ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন পুলিশ টাকার লেনদেনে জড়িয়ে যায়। সন্দেহজনক যাত্রীরা টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পার পান।

তবে সুমন ঘুরতে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে বৈধ কাগজপত্র, ভিসা, ডলার, হোটেল বুকিং এবং ফেরত টিকিট সবই ছিল। কিন্তু পুলিশের কোন জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। শেষে রাত ২টার দিকে ফ্লাইট মিস করে হতাশ হয়ে এয়ারপোর্ট থেকে ফিরে যান সুমন।

সিলেটের বালাগঞ্জের অধিবাসী সুমন আহমেদ। পেশায় ফিসারিজ ব্যবসায়ী। সুমন অভিযোগ করেন, রাত সাড়ে ৯ টায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তার পাসপোর্ট নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তখনই যাত্রা স্থগিতের বিষয় জানাতে পারত। কিন্তু তা জানানো হয়নি, কোন জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। রাত ১১ টা ৫ মিনিটে ফ্লাইট চলে গেলে অন্য পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি জানলেন তার যাত্রা স্থগিত।

তিনি মনে করেন, মালয়েশিয়াগামী স্টুডেন্ট ভিসায় যারা যাচ্ছিলেন তাদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছিলো ইমিগ্রেশন পুলিশ। বার বার তাগিদ দিলেও তখন পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়নি পুলিশ। নির্ধারিত ফ্লাইটে যেতে না পেরে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। পুনরায় এখন ফ্লাইট ধরতে চেষ্টা করছেন সুমন।