রবিবার, ৮ জুলাই, ২০১৮

দানের টাকায় কামরান, বেতনের টাকায় আরিফের নির্বাচনী ব্যয়

ভায়রা ও শ্যালকসহ আত্মীয়দের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের টাকা দিয়ে নির্বাচনী খরচ মেটাবেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। নির্বাচনের জন্য তাকে ভায়রা ও শ্যালক ৪ লাখ টাকা দেবেন।অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী সদ্য বিদায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনী খরচ জোগাবেন নিজের ব্যবসা, বাসা ভাড়া আর মেয়র থাকাকালে পাওয়া বেতনের টাকা দিয়ে।নির্বাচন কমিশন সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া হলফনামায় এমনটি উল্লেখ করেছেন এই প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মেয়রপ্রার্থী। ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনেও কামরান-আরিফের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।


গত ২৮ জুন মনোনয়পত্র জমা দেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও আরিফুল হক চৌধুরী। আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ‘স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান’ হিসেবে ৪ লাখ টাকা পাবেন কামরান। এই টাকা তার ভায়রা আতিকুর রহমান এবং শ্যালক মাহবুবুল হাসান দেবেন। প্রত্যেকেই ২ লাখ টাকা করে দেবেন।

নির্বাচনী ব্যয় প্রসঙ্গে হলফনামায় বদর উদ্দিন আহমদ কামরান উল্লেখ করেছেন- নির্বাচনে নিজ আয় থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন তিনি।

হলফনামায় দেয়া তথ্য মতে, কামরান ৩০ হাজার পোস্টার ছাপাবেন। এতে ব্যয় হবে এক লাখ টাকা। তিনি ৬টি নির্বাচনী ক্যাম্প পরিচালনা করবেন। এক্ষেত্রে তার ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। এসব ক্যাম্পে কর্মীদের জন্য খরচ হবে আরো ৯০ হাজার টাকা। কামরানের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী ক্যাম্পের খরচ ১০ হাজার টাকা এবং এ ক্যাম্পের কর্মীদের খরচ ৩৫ হাজার টাকা।

কামরানের নিজের ও তার নির্বাচনী এজেন্টদের যাতায়াতে ব্যয় হবে সাড়ে ৮৭ হাজার টাকা। এছাড়া কর্মীদের যাতায়াত বাবদ খরচ হবে ৫০ হাজার টাকা। ঘরোয়া বৈঠক বা সভার জন্য ভেন্যুর ভাড়া ১০ হাজার টাকা, সভা আয়োজনের জন্য শ্রমিকের পারিশ্রমিক ১৫ হাজার টাকা এবং সভার জন্য আসবাবপত্র বাবদ ব্যয় হবে ১০ হাজার টাকা। কামরান এক লাখ লিফলেট ও এক লাখ হ্যান্ডবিল ছাপাবেন। এক্ষেত্রে তার ব্যয় হবে আড়াই লাখ টাকা। ১৬২টি ব্যানার তৈরি বাবদ কামরানের সাড়ে ৮১ হাজার টাকা এবং ব্যানার টানানো বাবদ ১৬ হাজার ২০০ টাকা খরচ হবে। ৩০টি ডিজিটাল ব্যানার তৈরিতে ৩০ হাজার টাকা এবং সেগুলো টানানোর ক্ষেত্রে ৬ হাজার টাকা ব্যয় করবেন কামরান।

এছাড়া কামরান নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ৩০টি পথসভা করবেন এবং এতে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হবে।

কামরানের নির্বাচনী প্রচারণায় মাইকিং বাবদ খরচ হবে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা। নির্বাচনী প্রতীক তৈরি বাবদ ১০ হাজার টাকা, ৬টি অফিসে আপ্যায়ন বাবদ এক লাখ ৮ হাজার টাকা, ৬০ জন কর্মীর আপ্যায়নে এক লাখ ২ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারণা বাবদ ২০ হাজার টাকা এবং বিবিধ ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা খরচ হবে।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, ‘নিজ আয়’ থেকে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয় করবেন। এই টাকা তিনি ‘নিজস্ব ব্যবসা, মেয়র থাকাকালে পাওয়া বেতন ও বাস ভাড়া বাবদ আয়’ থেকে পাবেন।

আরিফ ৩০ হাজার পোস্টার ছাপাতে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। তার দুটি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনে খরচ হবে ৩০ হাজার টাকা এবং ক্যাম্পে কর্মীদের জন্য ব্যয় হবে ৫০ হাজার টাকা। আরিফের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনে ৩০ হাজার টাকা এবং এ ক্যাম্পের কর্মীদের জন্য ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে। যাতায়াতে আরিফের খরচ হবে ৪০ হাজার টাকা এবং এ ক্ষেত্রে কর্মীদের খরচ হবে ৮০ হাজার টাকা। ঘরোয়া বৈঠক বা সভা আয়োজনে ভেন্যুর ভাড়া বাবদ ৯০ হাজার টাকা, সভা আয়োজনে শ্রমিকের পারিশ্রমিক এক লাখ টাকা এবং সভায় আসবাবপত্রের জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন তিনি।

আরিফ এক লাখ লিফলেটে এক লাখ টাকা এবং ২৭ হাজার হ্যান্ডবিলে ৫৪ হাজার টাকা খরচ করবেন। ৪৫টি ব্যানারে ৩৬ হাজার টাকা এবং এগুলো টানাতে ৯ হাজার টাকা ব্যয় হবে। ১০০টি ডিজিটাল ব্যানার তৈরি ও টানানো বাবদ যথাক্রমে ৪০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা খরচ হবে। এছাড়া তার ৩০টি পথসভায় মাইক ভাড়া বাবদ আরিফ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। আরিফের নির্বাচনী প্রচারণায় মাইকিংয়ের জন্য যানবাহন ভাড়ার ক্ষেত্রে ৪২ হাজার টাকা, মাইকিংয়ে নিয়োজিত শ্রমিকের ক্ষেত্রে ২১ হাজার টাকা এবং মাইকের ভাড়ার ক্ষেত্রে ২১ হাজার টাকা খরচ হবে।

তাছাড়া ৪০টি নির্বাচনী প্রতীক তৈরিতে ৮ হাজার টাকা, ৩টি অফিসে আপ্যায়ন বাবদ ৪২ হাজার টাকা, ১০০ জন কর্মীর আপ্যায়নে এক লাখ ২৬ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আরিফুল হক চৌধুরীর এক লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হবে।