রবিবার, ১ জুলাই, ২০১৮

৭বছরের জন্য নিষিদ্ধ সেলেব্রিটি শেফ টমি মিয়াহ

কোম্পানী ডাইরেক্টর হিসাবে ৭ বছরের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে সেলিব্রেটি শেফ টমি মিয়া ও তার স্ত্রী।এডিনবরার বিখ্যাত ব্যাবসা প্রতিষ্টান রাজ হোটেলের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত জরুরী তথ্য সংরক্ষন করতে ব্যার্থ হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা জারী করল আদালত । রায় ঘোষনার সময় তারা কেউ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
ব্রিটিশ সরকারের ইনসল্ভেন্সী বিভাগ কতৃক প্রচারিত প্রজ্ঞাপনে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে। এ নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে ৬ই মার্চ ২০২৫ সাল পর্যন্ত। কোম্পানীর মোট বকেয়া ট্যাক্সের পরিমান ২২৮, ৯২০ পাউন্ড ।


আদালত সুত্রে আরও জানা যায়, কোম্পানীর ব্যাংক একাউন্ট থেকে ১ মিলিয়ন পাউন্ড সরানো হয়েছে যার কোন সুর্নিদিষ্ট রেকর্ড পাওয়া যায়নি। আনুষ্টানিক ভাবে কোম্পানীটি বন্ধ ঘোষনার পরও কোম্পানীর একাউন্ট থেকে চেক ইস্যু করা হয়েছে প্রমান মিলেছে।
টমি মিয়া কে সমপ্রতি ব্রিটেনের রাণী কতৃক প্রদত্ত এমবিই এওয়ার্ড ফেরত নেয়া হতে পারে বলে আশংকা করছে স্কটিশ মিডিয়া য় প্রকাশিত রিপোর্ট সমুহে।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন চালু হলে কোম্পানী ডাইরেক্টর হিসাবে দায়িত্বে অবহেলা বা অর্থ জালিয়াতির দায়ে জেলদন্ড ও হতে পারে।
সুত্র মতে , মারীফিল্ড ডেভলাপমেন্ট লিমিটেড (এমডিএল) নামে কোম্পানীটি চালু হয় ২০০৪ সালে। এই কোম্পানীর অধীনে পরিচালিত হত  এডিনবরাস্থ রাজ হোটেল।


মোহাম্মদ আজমান মিয়া ওরফে টমি মিয়া  উক্ত কোম্পানীতে ডাইরেক্টর হিসাবে যোগ দেন ৩০শে জানুয়ারী ২০১২ সালে। উনার স্ত্রী মিসেস আনোয়ারা আক্তার মিয়া এমডিএল এর ডাইরেক্টর হিসাবে যোগ দেন ২রা ফেব্র“য়ারী ২০০৪ তারিখে । কোম্পানীটির নাম্বার হচ্ছে এসসি ২৬২৬৫৫ ।
D7C31B24-F03A-4BA5-9998-F75BCCE90D4E২০১২ সাল থেকে টমি মিয়া এবং তার স্ত্রী এমডিএল এর জয়েন্ট ডাইরেক্টর ছিলেন। প্রতিষ্টান টির সকল কার্যক্রম  ২০১৫ সালের ১৯ শে নবেম্ভর বন্ধ হয় এবং ক্রিসমাসের আগেই তা লিকুইডিশনে চলে যায় । তখন কোম্পানীর কাছে বিভিন্ন সরবরাহকারীর সর্বমোট পাওনা  ছিল ২৬০,০০০ পাউন্ড । কোম্পানী লিকুইডিশনে যাওয়ার পর ডাইরেক্টরদ্বয় প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে ব্যার্থ হওয়ায় বিষয়টি স্থানান্তরিত করা হয় আদালতে ।
কোম্পানী হাউসের তথ্যমতে এই প্রতিষ্টানটি ৭ই জুন ২০১৮ তারিখে বিলুপ্ত হয়।
গত ২৮ শে জুন প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে- ইনসলভেন্সি সার্ভিসের প্রধান কমকর্তা রবার্ট ক্লার্ক বলেন, “ডাইরেক্টর দের দায়িত্ব হচ্ছে কোম্পানীর সকল আর্থিক লেনদেন সুষ্টভাবে সংরক্ষন করা। ইনস্লভেন্সি ঘোষনার প্রেক্ষিতে স্বচ্ছতা এবং সমতা  সৃষ্টিতে ডাইরেক্টরদের ও এসব দায়িত্ব রয়েছে ’’
টমি মিয়া (আজমান মিয়া) ১৯৫৯ সালে বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার বাড়ন্তি গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ১০ বছরে বয়সে পরিবারের সাথে পাড়িজমান বিলেতে। ক্যারিয়ার শুরু হয় ক্যাটারিং ইন্ড্রাস্ট্রিতে। ১৭ বছর বয়সে চালু করেন নিজস্ব টেকওয়ে।  এডিনবরা রাজ রেষ্টুরেন্ট এর সত্বাধিকারী টমি মিয়া ব্রিটেন ও বাংলাদেশে একাধিক ক্যাটারিং ব্যাবসা প্রতিষ্টার সাথে জড়িত রয়েছেন। কারী শিল্পের উন্নয়নে টমি মিয়ার নানাবিধ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। ’ইন্ডিয়ান শেফ অব দ্যা ইয়ার’ কম্পিটিশন দেশে বিদেশে উলে­খযোগ্য স্বীকৃতি পেয়েছে।  ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী র জন্য রান্না করে ইতিপুর্বে সবার দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি। বাংলাদেশে ক্যাটারিং প্রশিক্ষন প্রতিস্টান টমি মিয়া ইন্সটিটিউট অব হসপিটালিটি ম্যানেজম্যান্ট গড়ে তোলেন তিনি।  বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শেফ আনার ব্যাপারে ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন নীতিমালা শিথিল করার দাবীতে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
হসপিটালিটি ইন্ড্রাষ্ট্রি এবং চ্যারিটিবল সেক্টরে উলে­খযোগ্য অবদান রাখায় ২০১৭ সালে স্কটল্যান্ডের একমাত্র বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত টমি মিয়া এমবিই এওয়ার্ড পান।
সমপ্রতি তিনি কলকাতা এবং বাংলাদেশে ’টমি মিয়া ফ্রায়েড চিকিন’ শীর্ষক একটি ফাস্ট ফুড ব্রান্ড চালু করেন।