মঙ্গলবার, ৫ জুন, ২০১৮

হকারদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা-মেয়র আরিফ

বন্দরবাজারে হকারদের তাণ্ডব এবং নগর ভবনে হামলার ঘটনায় তাৎক্ষনিক সংবাদ সম্মেলন করেছেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।সোমবার (৪ জুন) নগর ভবনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, ‘হকাররা আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ফুটপাত দখল করে রেখেছে। তারা নগরবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের কারণে ফুটপাতে চলাফেরা দায় হয়ে পড়েছে। নগরীর যানজট কোনভাবেই কমানো যাচ্ছেনা। এমন অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। নগরবাসীর স্বার্থে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেবো।মেয়র বলেন, ‘বন্দরবাজার এলাকায় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছিল হকাররা। এর আগে তাদের উচ্ছেদের ব্যাপারে আদালত থেকে সরাসরি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা মতে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বারবার হকারদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু হকাররা কারোর তোয়াক্কা না করে ফুটপাতে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। সিটি করপোরেশন থেকে একদিকে উচ্ছেদ করা হলে অন্যদিকে আবার তারা দখল করে ফের ব্যবসা বসিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা ফুটপাতে না বসতে হকারদের অনুরোধ জানিয়েছিল। তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে হকার নেতা আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে একদল হকার সংঘবদ্ধ হয়ে নগর ভবনে হামলা চালায়। এসময় তারা নগর ভবনে ঢুকে করপোরেশনের তিন কর্মীকে মারধোর করেছে। আহত হয়েছেন ইউসুফ আলী, আনসার আলী, সুমন আহমদ।

মেয়র বলেন;সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিরোধের মুখে হকাররা নগরভবন থেকে বের হতে বাধ্য হয়। এমন অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। তারা নগরভবনে হামলার দুঃসাহস কিভাবে পেল? কারা তাদেরকে সাহস যোগাচ্ছেন এদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। হকার্স লীগ নেতা আব্দুর রকিব ফুটপাত দখলের মামলায় জেল থেকে জামিনে রয়েছে। তারপরও তার দৌরাত্ম্য থেমে নেই।’

এ ঘটনায় প্রয়োজনে মামলা করা হবে, এ ঘটনায় সিটি করপোরেশন থেকে আইনি পদক্ষেপে নেয়া হবে। এর আগেও হকারদের উচ্ছেদের ব্যাপারে সিলেটের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ জেলা পরিষদের সভা করেছেন। সর্বসম্মতিক্রমে তাদের উচ্ছেদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটি এখন নগরবাসীর দাবি। আর এই দাবি রক্ষার্থে সিটি করপোরেশন থেকে যা যা করার আমরা তা করবো।

সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ ও আহত তিন কর্মচারীও উপস্থিত ছিলেন।