রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮

গোলাপগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধশতাধিক বিদ্যালয় ও ঘরবাড়ি

গোলাপগঞ্জে বন্যার পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। নতুন করে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা। বৃহস্পতিবার বৃষ্টি না হলেও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যায় এসব স্থাপনা। ফলে উদ্বেগ-আতঙ্ক দেখা দিয়েছে লোকজনের মধ্যে।এদিকে পানিতে নিমজ্জিত থাকা অর্ধশতাধিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া এসব বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীরা আসা-যাওয়া করতে পারছে না। ফলে অভিভাবকরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সবচেয়ে দুর্গম ও হাওরাঞ্চল এলাকা হিসেবে পরিচিত শরীফগঞ্জ, বুধবারীবাজার, বাদেপাশা, আমুড়া, বাঘা ও ভাদেশ্বর ইউনিয়নসহ অর্ধশতাধিক গ্রামে ঢুকে পড়েছে পানি।


ফলে শত শত ঘরবাড়ি, দোকানপাঠ, রাস্তা ও বাজার রয়েছে পানির নিচে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ার কারণে উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের পানিয়াগা, পনাইচক, মেহেরপুর, কাদিপুর, খাটকাই, কদুপুর, পনাইচক, মেহেরপুর, কাদিপুর, কালিকৃষ্ণপুর ও নুরজাহানপুরসহ ১৫-১৬টি গ্রামের ঘরবাড়িতে হাজার হাজার লোকজন রয়েছেন পানিবন্দি। ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ার কারণে রান্নাবান্না রয়েছে বন্ধ।

এছাড়া বাদেপাশা ইউনিয়নের আমকুনা, খাগাইল, মোল্লাকুনা, কালাইন, বাগলা চৌঘরী, মীরের চক বাদেপাশা, আলমপুর, হাজিকুনা ও বড়কান্দিসহ প্রায় ২০টি গ্রামের শত শত ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারছে না। এসব গ্রামে এখনও কোনো ধরনের ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি।

ভাদেশ্বর ইউনিয়নের হাওরতলা, গুটারগাঁও, ফতেহপুর, গোয়াসপুর, শেখপুরের আংশিক, নিয়াগুল, পাত্তন, মাশুরা, বড়বাড়ী, মেহেরপুর, নুরপুর, কৃষ্ণপুর, খাটাখালিরপাড় ও কুশিয়াসহ ১৬-১৭টি গ্রাম রয়েছে পানির নিচে। এসব গ্রামের হাজার হাজার লোকজন এখন খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করছেন। বন্যাদুর্গত এসব এলাকায় এখনও পৌঁছেনি কোনো ধরনের ত্রাণ।

আমুড়া ইউনিয়নের সুন্দিশাইল গ্রামের আংশিক, গাগুয়া, শিকপুর, বাঙ্গালীগুল গ্রামের (আংশিক) লোকজন রয়েছেন পানিবন্দি অবস্থায়। এসব এলাকার ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট রয়েছে পানির নিচে।

বন্যার পানিতে অর্ধশতাধিক বিদ্যালয় তলিয়ে যাওয়ার ফলে চরম বিপাকে পড়েছে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। তারা স্কুলে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে। এতে শিক্ষার ক্ষেত্রে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। শরীফগঞ্জের বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি টানা ৬ মাস ধরে রয়েছে পানির নিচে। ফলে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা স্কুলবিমুখ হচ্ছে।

এলাকার কামিল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন জানান, এ জায়গাটি বছরের ৬ মাস থাকে পানির নিচে। স্কুলে কোনো মেরামত হয় না। ফলে দিন দিন স্কুলবিমুখ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হামিদ সরকার বলেন, উপজেলায় ১৮০টি প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে ১৪টি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে এসব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি, পাঠদান বন্ধ রয়েছে।