শনিবার, ৯ জুন, ২০১৮

ইবনে সিনা হাসপাতালের উপর গুরুতর অভিযোগ,জীবন নিয়ে কসাইয়ের (ডাক্তার) খেলা!

সিলেটের বেসরকারি চিকিৎসালয় ইবনে সিনা হাসপাতালে স্বেচ্ছাচারিতার শেষ কোথায়? এনিয়ে এক ভোক্তভোগি রোগীর স্বজন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাস্টাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি চাঞ্চলকর তথ্য দিয়েছেন..

তার সেই প্রদানকৃত স্ট্যাস্টাস আমাদের পাঠকের জন্য তুলে দেয়া হলো :-

সেপি বেগম(২৬), বারহাল গ্রামের জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। গত ৪-৬-১৮ সোমবার সকাল ৯ টার দিকে সিলেট হাতিমবাগ এলাকার দিকে ট্রাকের সাথে দুর্ঘটনার গুরুতর আহন হন। দ্রুত নিয়ে আসা হয় সিলেট “ইবনে সিনা” হসপিটাল। ইমার্জেন্সি ডাক্তার ভর্তি রেফার্ড করেন এবং সার্জন ডাক্তার দ্বারা ট্রিটমেন্ট হতে হবে জানিয়ে দেন। ৯.৩০ মিনিটের দিকে ভর্তি দেয়া হয় এবং অপেক্ষা করা হয় সার্জন ডাক্তারের। বার বার ফোন দেয়া হচ্ছে সার্জন সাহেব কে, আসছি আসছি করে দুপুর ২ টা।


নিয়ে যাওয়া হয় ‘পোস্ট ওপারেটিভ’ রুমে। আবারো অপেক্ষা সার্জন আসিতেছেন। এতক্ষণে রোগীর আত্মীয় স্বজন চিল্লাচিল্লি শুরু করলে ডা: সামাদ রোগীকে নিয়ে যান “অপারেশন থিয়েটারে। তখনও আসেন নি সার্জন, অত:পর তিনিই হাতে দেন “ব্যান্ডেজ ” এবং আবারো পোস্ট ওপারেটিভ রুমে। রোগীর লোকজন তখন দেখতে পেলেন মহিলার কাঁধে এবং পায়ে জখমকৃত অংশে কোন ধরনের মেডিসিন বা ব্যান্ডেজ হয় নি।

সময় গড়িয়ে দুপুর ৩.৩০ এর দিকে আসেন কাঙ্খিত সার্জন ডা: চৌধুরী ফয়জুর রব জোবায়ের সাহেব। আবারো “ওটিতে” রোগী এবং দেখলেন রোগীকে। বাকী অংশতে দেয়া হলো ট্রিটমেন্ট। হাতে রয়ে গেলো ডা: সামাদ সাহেবের করা ব্যান্ডেজ! কথা বললেন রোগীর আত্মীয় স্বজনের সাথে। বুজিয়ে বললেন রোগীর সার্বিক অবস্থা মোটামুটি ভাল। চিন্তার কোন কারণ নেই, রোগীর এখন “পিরিয়ড” চলতেছে তাই অপারেশন সম্ভব হচ্ছেনা। তাই রবিবার এর আগে অপারেশন করা যাবে না।

রোগীর আত্বীয় প্রশ্ন করলেন রবিবার পর্যন্ত এই ব্যান্ডেজ থাকবে কিনা? উত্তরে ডাক্তার চৌধুরী ফয়জুর রব জোবায়ের, উনার টিম এর ডা: সামাদ কে দেখিয়ে বললেন যেহেতু উনি ব্যান্ডেজ করেছেন সেহেতু সমস্যা না।

এর মধ্যে ভয়ংকর ব্যাপার ছিলো ডাক্তার সাহেব এই ব্যান্ডেজ আর খুলেন নি বা রোগীর হাতে উনি হাত দিয়েও দেখনি ব্যান্ডেজ ঠিক আছে কিনা?

অত:পর রিলিজ দিয়ে দিলেন রোগীকে। রোগীর আত্মীয় স্বজন থাকতে চাইলে তিনি জানান, এ ধরনের প্রবলেমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যাওয়া যায়। সমস্যা হবে না।

রোগীর আত্মীয় স্বজন ব্যাপার টা বুজে উঠতে পারছিলেন না, এতো গুরুতর এক্সিডেন্ট ডাক্তার সাহেব এতো হালকা ভাবে নিচ্ছে কেন?

হসপিটালের বিল পরিশোধ করতে যেয়ে দেখা যায় ২৪ ঘণ্টায় বিল আসছে ২৪ হাজার টাকারও বেশি। বাধ্য হয়ে পুরো টাকা পরিশোধ করে আসেন।

ডাক্তারের কথায় ভরসা ও বিশ্বাস করে রোগীকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই #ব্যান্ডেজের ফাঁক দিয়ে শুরু হয় ব্লিডিং, দ্রুত নিয়ে আসা হয় সিলেট “আইডিয়াল হসপিটাল”। ভর্তি দেয়া হয় রোগীকে, দেখতে আসেন ওসমানীর অর্থোপেডিক্স ডিপার্টমেন্ট এর অধ্যাপক ডা: শংকর কুমার রায়। রোগী আবারো “ওটি” তে। ১ ঘণ্টা পরে বের করা হয় “ওটি” থেকে।

ডা: শংকর স্যারের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোগীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপারেশন জরুরী ছিল। আর হাতে যে ব্যান্ডেজ হয়েছে তা সঠিকভাবে হয় নি, হাতের হাড্ডি রয়ে গেছে বাইরে এবং সাথে সাথে অপারেশন করে হাড্ডি জায়গা মতো না বসানোর কারণে সেখানে সামান্য পচন/ইনফেকশন ধরে গেছে। এখন চাইলেও অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছেনা। কারণ সেই ইনফেকশন শুকাতে হবে, এর পর অপারেশন করতে হবে। এখন রোগী আইডিয়াল হসপিটাল ভর্তি আছেন এবং ট্রিটমেন্ট চলতেছে।