সোমবার, ৭ মে, ২০১৮

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ‘চূড়ান্ত’ তারিখ ১০ মে

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তারিখ কয়েক দফা পেছানোর পর আগামী ১০ মে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।আজ সোমবার সকালে ‘এটাই স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত তারিখ’ উল্লেখ করে বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া উইং) মো. জাকির হোসেন খাঁন জানান, এই তারিখ আর পরিবর্তন হবে না।


তিনি জানান, ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হবে।স্যাটেলাইটটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরালে অবস্থিত স্পেস এক্সের লঞ্চ প্যাডে রয়েছে। ওই লঞ্চ প্যাড থেকেই মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে করে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম স্যাটেলাইট সদস্য দেশের তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এর আগে শুক্রবার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে বলে দাবি করেছে স্পেসএক্স। শুক্রবার অরল্যান্ডোর কেনেডি স্পেসসেন্টারে এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালানো হয়।

স্যাটেলাইট পাঠানোর কাজটি বিদেশে হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে বাংলাদেশ থেকেই।

এজন্য গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় দু’টি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যা নিয়ন্ত্রণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনের যন্ত্রপাতিও আমদানি করেছে বিটিআরসি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এটি একটি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট এবং আলাদাভাবে স্পট থেকে তৈরি হওয়া নিজস্ব স্যাটেলাইট। বাংলাদেশকে সার্ভিস দেওয়ার জন্য এতে আলাদাভাবে ২০টি ট্রান্সপন্ডার রাখা হয়েছে। এই স্যাটেলাইটের মেয়াদ ১৫ বছর। স্যাটেলাইটের জন্য অরবিটাল স্লটও কেনা হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। এই স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণের জন্য রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট কেনে বাংলাদেশ। এ জন্য খরচ হয় ২১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) সঙ্গে প্রায় এক হাজার ৪শ কোটি টাকার ঋণচুক্তি করে বিটিআরসি।

দেশের সব স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, টেলিফোন ও রেডিও বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়ায় ব্যবহার করছে। সেজন্য প্রতিবছর ভাড়া বাবদ বাংলাদেশকে ১১০ কোটি টাকা দিতে হয়। বহুলকাঙ্ক্ষিত নিজেদের স্যাটেলাইট চালু হলে এই মোটা অংকের অর্থ সাশ্রয় হবে।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল (এসপিআই)। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি নকশা তৈরি, গ্রাউন্ড স্টেশন ব্যবস্থাপনা, বাজার মূল্যায়ন, স্যাটেলাইট বাজারজাতকরণ এবং স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করছে।