মঙ্গলবার, ২২ মে, ২০১৮

সিলেটে মূল্য ঠিক রাখার নামে কম দেয়া হচ্ছে ওজনে

রমজানে সিলেটে নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে একাধিক মনিটরিং টিম মাঠে থাকলেও বাজার অস্থির। মনিটরিং টিমের চাপে মূল্য তালিকা অনেকেই টানালেও অসৎ ব্যবসায়ীরা কম দিচ্ছে ওজনে।ফলে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। এদিকে বাজার মনিটরিং টিমের জনবল সীমিত ও অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত বিস্তৃত। এতে মনিটরিং টিমের গতিবিধির খবর দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে অসৎ ব্যবসায়ীদের কাছে।ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন মনিটরিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিতরাও। তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে ১৬টি পণ্যের দাম বাড়লেও কমেছে ১২ পণ্যের।


সিলেট জেলা প্রশাসন বাজার মনিটরিংয়ে ৫টি টিম গঠন করেছে। টিমগুলো প্রতিনিয়ত চষে বেড়াচ্ছে নগরীর বাজারগুলো। তারা প্রতিদিন বাজারে গিয়ে মূল্য তালিকা পর্যবেক্ষণ ও ওজনে কম দেয়া হচ্ছে কি-না তা খতিয়ে দেখছেন।

মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশ অমান্যকারী ও ওজনে কম দেয়ার সঙ্গে জড়িতদের তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের অনেকেই মূল্য তালিকা টানালেও নীরবে চুরির সঙ্গে জড়িত। এমন অভিযোগে ইতিমধ্যে নগরীর নামিদামি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি মাছ, মাংস, শাকসবজি ও ফলের বাজারও মনিটরিং টিম পর্যবেক্ষণ করছে। মাছ বাজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ফরমালিনযুক্ত মাছ বিক্রি প্রতিরোধে তারা তৎপর।

কিন্তু মনিটরিং টিমের গতিবিধি মাছ ব্যবসায়ীদের নখদর্পণে থাকায় অভিযান তেমন একটা সফলতা পাচ্ছেনা। মাংসের বাজারেও চলছে নানা অনিয়ম। অপরদিকে রমজান উপলক্ষে শাকসবজির বাজার আকাশ চুম্বী।

নগরীর সোবহানিঘাট পাইকারি বাজার থেকে কেনা প্রতিটি সবজির কেজিতে কমপক্ষে ২০-৩০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। নানা প্রতিকূলতার কারণে সবজির বাজার ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা

মনিটরিং টিমগুলো। সিলেটের ফলের বাজার সয়লাব অপরিপক্ক ও বিষাক্ত ফলে। এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা জারির পরও ফল ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া। অপরিপক্ক আম ও কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। বাজার ভরা বিষাক্ত কলায়। দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা ফরমালিনমুক্ত ফল বাজারে নেই বললেই চলে।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজির সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ বলেন, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকারের পাশাপাশি রমজানের বাজার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে চেম্বারের পক্ষ থেকে। এ জন্য ৫ জনের একটি টিম কাজ করছে।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সন্দীপ কুমার সিংহ জানান, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ির পর ওজন চুরির প্রবণতা বেড়েছে। এমন অপরাধে বেশ কয়েকটি মেগামলসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি জানান, রমজান মাস জুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করছেন।

নগরীর ব্রহ্মময়ী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতি কেজি আদা ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, পেঁয়াজ ২৬ থেকে ২৯ টাকা, রসুন ৪০ থেকে ৯৫ টাকা, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচামরিচের কেজি ৫৫ থেকে ৭০ টাকা, ছোলা ৫৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাত্র ১ মাস আগেও প্রতি কেজিতে ১০-২০ টাকা কম ছিল। ব্যবসায়ী রফিক মিয়ার দাবি আমদানি কমে যাওয়ায় পণ্যের দাম বেড়েছে।

এদিকে, বাজারে গরু, খাসি ও মুরগির মাংসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ টাকা। প্রতি কেজি মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা।

প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকায়। মাংসের পাশাপাশি ডিমের দাম ও বেড়েছে। বাজারে প্রতি হালি ডিম ৩২ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, ভারতীয় ১০০ টাকা, মুগ ডাল ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, সিলেট জেলা প্রশাসনের ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখার দাবি, সিলেটে চাল, আটা, ময়দাসহ প্রয়োজনীয় ১৬টি পণ্যের দাম বেড়েছে। এরমধ্যে কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে ০.৫১ শতাংশ, আবার কোনো পণ্যের দাম ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

এমন প্রতিবেদন তারা সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে পাঠিয়েছেন। অপরদিকে সিলেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১২টি পণ্যের মূল্য হ্রাস পেয়েছে জেলা প্রশাসনের ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখার মতে।

এগুলো হচ্ছে ধান, চাল, ছোলা প্রভৃতি। সর্বোচ্চ ৪৮.৪৮ শতাংশ থেকে সর্বনিু ৩.৩৮ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে এসব পণ্যের মূল্য।