শুক্রবার, ১১ মে, ২০১৮

হাওরে আতংকের মধ্যে ধান কাটছেন কৃষকরা

তাহিরপুর থেকে সংবাদদাতা :আইড়রা কোনা (ঈশান) দিয়া সাঝ করলে দৌড়িয়া বাড়িত আওয়া যায় না তার আগে ঠাডা (বজ্রপাত) শুরু অইয়া যায়,তাই আইড়া কোনা দিয়া সাঝ দেখলে আগে বাগেই আওর (হাওর) থাইকা দৌড়াই। স্থানীয় ভাষায় কথা গুলো বলছিলেন শনির হাওর পারের উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক শাহ আলম মিয়া। শুধু শাহ আলম মিয়াই নয় বর্তমানে এ রকম বক্তব্য হাওর পারের শত শত কৃষক ও শ্রমিকের। তাদের মধ্যে ঈশান কোনার মেঘ মানেই ঝড় বৃষ্টি সাথে বজ্রপাত এবং ঘটছেও তাই। 


এক দিকে হাওরে পাকা ধান অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়া এ দুইয়ের মধ্যে মনে আতংক ও ভয় নিয়ে ধান কাটছে কৃষক। আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখলেই ধান কাটা ছেড়ে যে যার মত দৌড়ে বাড়ি ফিরছে। অনেকেই অনোন্যপায় হয়ে আবার হাওরেই অবস্থান করছে আর তাতেই ঘটছে দুর্ঘটনা। 

বৈশাখ মাস শুরু থেকে সুামগঞ্জ জেলা সহ হাওর উপজেলায় বজ্রাঘাতে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও সম্প্রতি তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে এক শ্রমিক ও শনির হাওরে বজ্রপাতে এক কৃষক মারা গেলে এ আতংক ছড়িয়ে পড়ে হাওর পারের সমস্ত কৃষক শ্রমিকদের মধ্যে। এ অবস্থায় গত তিন দিন ধরে আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখে হাওর থেকে হাজারো শ্রমিক-কৃষক কে ধান কাটা ছেড়ে বাড়ি ফিরতে দখো গেছে। 

মেঘ দেখে যে যার মত করে দৌড়ে বাড়ি ফিরছেন। পরে দিন ভাল হলেও আর হাওরে যাচ্ছেন না ধান কাটতে। এক দিকে জমিতে পাকা ধান অপরদিকে বৈরী আবহাওয়া কোন দিকে যাবেন কৃষক তাই হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দাবী এখনই হাওরগুলোতে বজ্র নিরোধক যন্ত্র স্থাপন অত্যন্ত জরুরী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় গত ১ মাসের ব্যবধানের সুনামগঞ্জ জেলায় বজ্রপাতে ১২জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে ১০জনের বেশী।

শনির হাওরে ধান কাটতে আসা শ্রমিক তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ী গ্রামের ইয়াকুব মিয়া বলেন, ১৫ দিন হল এসেছি কিন্তু দিন খারাপ থাকায় তেমন ধান কাটা হয়নি। প্রায় দিনই মেঘ দেখে ভয়ে হাওর থেকে দৌড়ে বাড়ি ফিরেছি।

উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক মইনুল মিয়া বলেন, বোরো ধান কাটার সময় হাওরে গিয়ে মাঝে মধ্যে খুব বিপদে পড়তে হয় ইচ্ছে করলেও মেঘ দেখে বাড়ি ফিরে আসা যায়না। বিপদে পড়েই মেঘ-বৃষ্টি, বজ্রপাত মাথায় নিয়ে হাওরেই অবস্থান করি।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, বর্তমানে হাওরে নতুন আতংকের নাম বজ্রপাত, শ্রমিকরা বজ্রপাতের ভয়ে মেঘ দেখেই বাড়ি ফিরে আসে। তাই কৃষক, শ্রমিকের জীবন বাচাঁতে এখনই হাওরগুলোতে বজ্র নিরোধক যন্ত্র স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরী।

কৃষি অর্থনীতি বিশ্লেষক, লেখক ও কলামিস্ট লেখক মুকুল বলেন, বাতাসে নাইট্রোজেন ও সালফারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় কালো মেঘের পরিমাণ বেড়েছে ফলে বজ্রপাতের পরিমাণও বেড়েছে। তাছাড়া তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামান্য বৃষ্টিপাত কিংবা ঝড়ো বাতাসে বজ্রপাতের ঘটছে।