সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৮

পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে ভারতগামী যাত্রীরা হয়রানির শিকার


বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল পুলিশ ইমিগ্রেশনে অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক  ভোগান্তিতে পড়ছেন ভারতগামী বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীরা।শুধু বাংলাদেশী নয় ভোগান্তিতে পড়ছেন ভারতীয় নাগরিকরাও।অধিকাংশ সময় বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহারের পাশাপাশি শারিরীকভাবে নির্যাতনও করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ হাতে নির্যাতন হতে হচ্ছে যাত্রীদের। দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনা ঘটলেও এ নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের।

পাসপোর্ট যাত্রীরা বলছেন, বৈধপথে পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে এ রকম দুর্ভোগ ও নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজর দেওয়া দরকার।

জানা গেছে, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণে এ পথে দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের যাতায়াত দেশের অন্য বন্দরের চাইতে অনেক বেশি। এছাড়া পার্শ্ববর্তী এই দেশটির সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশীদের আত্মীয়তার সম্পর্ক। ফলে দিন দিন এ পথে যাতায়াত বাড়ছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত পাসপোর্ট যাত্রী এ পথে যাতায়াত করে।

ভিসা নিতে ভারতীয় হাই কমিশন পাসপোর্ট প্রতি ৭শ’ টাকা ভিসা প্রসেসিং ফি আর বাংলাদেশ সরকার নিচ্ছে ৫৪২ টাকা ভ্রমন কর। এছাড়া ভিসার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আরও খরচ হয় প্রায় ২ হাজার টাকা। কিন্তু যাত্রীদের সুবিধার জন্য কিছুই করেনি ভারতীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় কাস্টমসে যাত্রী সাধারণের জন্য নেই কোন বিশ্রামাগার ও টয়লেট সুবিধা। প্রখর রোদ, বৃষ্টিতে ভিজে ও লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কাজ শেষ করে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে ঢোকার অপেক্ষায় পেট্রাপোল চেকপোস্টে নো-ম্যান্সল্যান্ডে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় পাসপোর্ট যাত্রীদের।

এ সময় অনেকে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। ভারতীয় আইবি পুলিশের পাসপোর্ট ও ভিসা চেকিংয়ের নামে সময় ক্ষেপনের জন্য নো-ম্যান্সল্যান্ডে পাসপোর্ট যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে বলে পাসপোর্ট যাত্রীরা অভিযোগ করেন। যাত্রীরা এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান।

যাত্রী সুবিধার্থে বাংলাদেশ সরকার অনেক আগেই এপার সীমান্তে আন্তর্জাতিক কাস্টমস-ইমিগ্রেশন ভবন, যাত্রী টার্মিনাল ও বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থাপনার উন্নয়ন করেছে। বাড়ানো হয়েছে কাস্টমস ও পুলিশের জনবল। কিন্তু ভারত অংশে যাত্রী সেবায় এসবের কিছু নেই। এতে ভারত যাত্রায় মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশী সহ সকল পাসপোর্ট যাত্রীদের।

বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ:
ভারতের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশনে মিনহাজ আরাফাত (২৯) নামে এক বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীকে নির্যাতন করেছে ভারতীয় পুলিশ। গত শুক্রবার তাকে নির্যাতন করা হয়। মিনহাজ নেত্রকোনা জেলার কেন্ডুয়া থানার খালিশপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তার পাসপোর্ট নম্বর বিই ০৮৯৯৬৭৭।

মিনহাজ কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে ভারতের হরিদাসপুর কাস্টমস পার হয়ে সে দেশের ইমিগ্রশনে প্রবেশ করি। এরপর পাসপোর্টের ফরম ফিল আপ করে লাইনে দাঁড়াই। এ সময় আমার পকেটে থাকা মোবাইল ফোনে কল আসে। রিসিভ করে কথা বলার সময় সাদা পোশাকের ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ এসে কাঁচঘেরা একটি কক্ষে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করে। 

এক পর্যায়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে পাসপোর্টে রিফিউজ সিল মেরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে বাংলাদেশী অন্যান্য পাসপোর্ট যাত্রীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও বন্দর কর্তৃপক্ষ’র উচ্চ পর্যায়ে পাসপোর্ট যাত্রী সমস্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে বার বার অভিযোগ জানিয়ে আসছেন ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা।
সূত্র:সময়ের কণ্ঠস্বর