রবিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৮

সুনামগঞ্জে কৃষিপণ্যের বাজার

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দরগাপাশা ইউনিয়নে আক্তাপাড়া মিনাবাজার। আপন ঐতিহ্যের গড়িমায় উদ্ভাসিত এ বাজার কৃষিপণ্য বেচাকেনার ঊর্বব ভূমি। বৈশাখ মাসকে সামনে রেখে এ বাজারে শুরু হয়েছে কৃষিপণ্যের বেচাকেনা। 
হাট বাজার নয়, প্রায় প্রতিদিনই এখন এ বাজারে উঠছে কৃষি কাজে ব্যবহৃত পণ্য সামগ্রী। ক্রেতারাও বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে ভিড় জমাচ্ছেন রাত পোহালেই। সারাদিন যেনো কাজে লাগাতে পারেন এজন্য সকাল বেলাতেই জমে উঠে হাট। দরকারী জিনিস কিনে আবার কাজের উদ্দেশে যাচ্ছেন কৃষকরা। তাই বেলা বাড়ার সাথে বাজার বাড়ে না- কমে। তবে, একেবারে শেষ হয়ে যায় না। স্থানীয় লোকদের ভিড় বাড়লেও কমে যায় কৃষকদের পণ্য বেচা কেনা। তবুও কিছু কিছু ব্যবসায়ী বসে থাকেন বৈকালিক বিক্রির আশায়।


এমনই একজন ব্যবসায়ীর নাম সুমেল মিয়া। বাড়ি আক্তাপাড়ার নোয়াগাঁও গ্রামে। তিনি বেতের তৈরি চিক্কা (কাটা ধান বহন করার জন্য বিশেষ কায়দায় বেতের তৈরি জিনিস)’র ব্যবসা করেন। বছর সাতেক সময় ধরে এ ব্যবসা করছেন তিনি। শুক্রবার সরেজমিনে আক্তাপাড়া মিনাবাজারে গেলে কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, একজন ক্ষুদ্র কৃষক তিনি। সীচনীর হাওরে তাঁর কিছু জমি আছে। এখনো তাঁর জমির ধান পাকেনি। তাই তিনি এ ব্যবসা করছেন। প্রতিবছরই করেন। বাজার থেকে বেত কিনে প্রতিদিনি ১০ থেকে ১২ জোড়া চিক্কা বানাতে পারেন তিনি। রাতদিন বাড়ির অন্যান্য সদস্যের সহযোগিতায় এসব চিক্কা বানিয়ে বাজারে নিয়ে আসেন। প্রতি জোড়া চিক্কা বিক্রি করেন ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জোড়া চিক্কা বিক্রি করতে পারেন তিনি। এক জোড়া চিক্কা বানাতে তাঁর খরচ আসে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতিদিন সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ ৮০ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন তিনি। এতেই চলে তার বৈশাখ মাস। বছরের অন্যান্য সময় অন্যান্য কাজ করেন তিনি।
আরেক থ্রিপাল ব্যবসায়ী দিলু মিয়া। জাউয়া বাজার ইউনিয়নের আবিদপুর গ্রামে তার বাড়ি। ১৫ বছর ধরে এ সীজনাল ব্যবসা করছেন তিনি। এ ব্যবসার মেয়াদ চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বৈশাখ মাসে ১৫/২০ দিন। বিভিন্ন বাজারে বাজারে গিয়ে ফেরি করে এ ব্যবসা করেন তিনি। বীরগাঁও বাজার, আক্তাপাড়া মিনাবাজার, দোলারবাজার, হোসেনপুর বাজার ও কলকলি বাজারসহ বেশক’টি বাজার ঘুরে তার এ ব্যবসা। শুক্রবার এসেছিলেন আক্তাপাড়া মিনাবাজারে। কথা হয় তার সাথে। ২০/২৫ দিনের এ ব্যবসা শেষে লাভের ১৫/২০ হাজার টাকা গুণতে পারেন তিনি। তার ভাষ্য মতে, এখনো বাজার শুরু হয়নি। আগামী সপ্তাহে জমজমাট হতে পারে। 
শুধু যে চিক্কা ব্যবসায়ী সুমেল মিয়া আর থ্রিপাল ব্যবসায়ী দিলু মিয়া এ বাজারে আসেন তা নয়। টুকরি, কাঁচি, টালাই প্রভৃতি কৃষিকাজে ব্যবহৃত পণ্যের জমজমাট হাট বসে এ বাজারে। নানান জায়গা থেকে সাধারণ মানুষ এসে ব্যবসায় করেন এখানে। এ ব্যবসায় আবার সাধারণ কৃষকের সকলে বেশ উপকার ভোগী হতে পারছেন না ফরিয়া ব্যবসায়ীদের জন্য। আগামী পর্বে তোলে ধরা হবে ফরিয়া ব্যবসীদের দৌরাত্ম। তবে, সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের দাবী, যদি বাজারে সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা যায় তাহলে এ বাজারের ঐতিহ্য রক্ষা সম্ভব হবে। 
বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (চিকর মিয়া) বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আমাদের বাজারের ঐতিহ্য রক্ষার দিকে নজর দেবো।’ নানা অসঙ্গতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কেউ অভিযোগ করলে আমরা এটি কঠোরভাবে দেখবো। কারণ এ বাজারের অনেক ঐতিহ্য। সরকারও এ বাজার থেকে একটা বড় রাজস্ব পায়।’ 
বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পল্লী চিকিৎসক এ এল জি জামান চৌধুুরী বলেন, ‘আমাদের বাজারের ঐতিহ্য বহুদিনের। এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে মানুষ ব্যবসা করে। বিশেষ করে বৈশাখ মাস এলে কৃষকের ব্যবহার্য জিনিসের বিক্রি বাড়ে। এজন্য নানান জায়গার ক্রেতারাও ভিড় করেন আমাদের এখানে। আমরা এর সঠিক পরিচর্যা করার চেষ্টা করি সব সময়। তবু কিছু সমস্যা থেকেই যায়।