শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

সাবমেরিন কেবলে বিদ্যুত যাচ্ছে সন্দ্বীপে

সাবমেরিন কেবলে বিদ্যুত যাচ্ছে সন্দ্বীপে। শুধু বাংলাদেশই নয় দক্ষিণ এশিয়ায় সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুত সংযোগের এটিই প্রথম প্রকল্প। বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড পিডিবি উপকূল থেকে ১৫ কিলোমিটার কেবল স্থাপন করে দ্বীপের মানুষের ঘরে গ্রিডের বিদ্যুত পৌঁছে দিচ্ছে। শুধু বিদ্যুতই নয় এর মধ্যদিয়ে দ্বীপের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে দ্রুতগতির ইন্টারনেট।


পিডিবি বলছে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে সাবমেরিন কেবল স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ। আগামী জুনেই বিদ্যুত সরবরাহের নতুন এই প্রকল্প উদ্বোধন করা সম্ভব হবে। এখন সন্দ্বীপে ডিজেল জেনারেটর দিয়ে শুধুমাত্র পিক আওয়ারে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুত সরবরাহ করে পিডিবি। এখন সন্দ্বীপের মোট বিদ্যুত গ্রাহকের সংখ্যা দুই হাজার ৩০০। সন্দ্বীপের বিদ্যুত চাহিদা গড়ে এক দশমিক ৮০ মেগাওয়াট। সন্দ্বীপে পিডিবির দুটি জেনারেটর রয়েছে। ডিজেলে বিদ্যুত উৎপাদন করতে পিডিবির অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।

বিদ্যুত বিভাগ সম্প্রতি এক উপস্থাপনায় জানায়, উপকূল থেকে ১৫ কিলোমিটারের দুটি কেবল স্থাপনের মাধ্যমে এ সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সন্দ্বীপে ১৬ ও সীতাকুন্ডে ১০ কিলোমিটার ওভার হেডলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৬০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ১৫টি ২৫০ কেভিএ ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে ১০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুত দেয়া সম্ভব হবে।

উপস্থাপনায় জানানো হয় ৩৩ হাজার ভোল্টের পৃথক ২টি কেবলের মধ্যে একটি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। অন্যটি বসানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি কেবলে ৩টি কোর ও একটি অপটিক্যাল ফাইভার রয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি কেবলের মাধ্যমে ১০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুত সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাকি কেবলটি রাখা হয়েছে বিকল্প হিসেবে। ভবিষ্যতে বিদ্যুত চাহিদা বৃদ্ধি পেলে অন্য কেবলটির মাধ্যমেও বিদ্যুত সঞ্চালন করা যাবে। এই দুটি কেবলের মাধ্যমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত সঞ্চালন করা সম্ভব হবে। এগুলোর স্থায়িত্বকাল ৫০ বছর। এছাড়া দ্বীপটিতে একটি বিদ্যুতের সাবস্টেশন বসানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি ১৮০০টি পোল বসানোর কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ১২০০টি পোল বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৬০০ পোল বসানোর কাজও জুনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে সমুদ্রে কেবল স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। তবে সন্দ্বীপ চ্যানেলে তীব্র স্র্রোতের কারণে কেবল বসানোর কাজ বিলম্বিত হয়। বিদ্যুত বিভাগ জানায়, ১৪৪ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে একনেক অনুমোদন করে।

সরকার মনে করছে সন্দ্বীপে বিদ্যুত গেলে পর্যটনখাতের বিপুল সম্ভাবনা গড়ে উঠতে পারে। এখন যা বিদ্যুতের অভাবে একেবারেই সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় চার লাখ মানুষ বসবাস করে দ্বীপটিতে। দ্বীপটির বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশের বাইরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করায় এখানের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ ভাল।

সরকার সারাদেশে ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশের যেসব দুর্গম এলাকায় একেবারেই গ্রিড লাইন পৌঁছে দেয়া সম্ভব না সেখানে বিকল্প পন্থায় বিদ্যুত পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। তবে যেসব উপকূলে জনবসতি কম সেখানে সোলার মিনিগ্রিড স্থাপন করা হচ্ছে। তবে যেহেতু সন্দ্বীপের আয়তন এবং জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে সোলার মিনিগ্রিড স্থাপন করাও বাস্তবসম্মত নয়। এছাড়া সরকার চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। যা বিদ্যুত ছাড়া একেবারেই সম্ভব নয়। সরকার মনে করছে সন্দ্বীপকে পর্যটক আকৃষ্ট করতে হলে এখানে সবার আগে বিদ্যুত পৌঁছে দিতে হবে।

বিদ্যুত জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ বিষয়ে বলেন, আগামী জুনেই সন্দ্বীপের প্রকল্পটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে। এর মধ্যদিয়ে দ্বীপের মানুষ বিদ্যুত পাবে। শুধু বিদ্যুত নয় এর মধ্যদিয়ে দ্বীপটির মানুষকে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সুবিধাও পৌঁছে দেয়া হবে।