মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় হিজরাদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

স্টাফ রিপোর্ট:সিলেটের ওসমানীনগরে বখশিসের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে হিজরা। বিয়ে এবং প্রবাসী যাত্রীদের গাড়ির গতিরোধ করে চাঁদা আদায় করছে তারা। এদের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় ভূক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে এই চাঁদাবাজির ঘটনা চলে আসলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার, তাজপুর, দয়ামীর ও শেরপুর এলাকায় মহাসড়কের পাশে ওৎপেতে থাকে হিজরারা। কোন বিয়ের গাড়ি বা প্রবাসী যাত্রীর দামি গাড়ি দেখা মাত্রই গাড়ির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে বখশিস হিসেবে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। কোন কোন সময় গাড়ির চাবিও কেড়ে নেয় তারা। টাকা পাওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনসহ অশালীন মন্তব্য শুরু করে তারা। হিজরাদের এমন আচরণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় বর এবং বরযাত্রী ও প্রবাসী যাত্রীদের। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে কমপক্ষে হাজার টাকা গুণতে হয়।

এদিকে হিজরাদের চাঁদাবাজিকালে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা প্রকাশ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বখশিসের নামে চাঁদা আদায় করতে সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে দ্রুতগামী গাড়ির গতিরোধ করে তারা। এসময় কেউ তাদের কাঙ্খিত চাঁদা না দিয়ে যেতে চাইলে গাড়িতে ঝুলে থাকে তারা। এমন পরিস্থিতিতে যখন-তখন বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।

সপ্তাহখানেক আগে দাশপাড়া রোডের একটি বিয়েতে বরের গাড়ি আটকে হিজরারা ৫হাজার টাকা দাবি করে। তাদের হাতে তখন ১হাজার টাকা ধরিয়ে দিলে তারা নানা ধরণের নোংরা মন্তব্য করতে শুরু করে। পরবর্তীতে তাদের ২হাজার টাকা দিয়ে রক্ষা পায় বরের গাড়ি।

ঠিক এমনই অবস্থা হয় খাদিমপুর রোডে। একটি কমি্উনিটি সেন্টার থেকে বরের গাড়ি বের হলে আগ থেকে ওৎপেতে থাকা হিজরারা গাড়ির রাস্তা আগলে দাঁড়ায়। ব্যস্ততম এ সড়কে তখন পেছন থেকে গাড়ি দীর্ঘ লাইন তৈরী হলে স্থানীয় কয়েকজন সিএনজি চালকের মধ্যস্থতায় ৩হাজার টাকার বিনিময়ে দফা-রফা করতে হয়।

গোয়ালাবাজার মাইক্রোবাস শ্রমিক উপ-কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী নাঈমুর রহমান শামীম বলেন, হিজরারা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ওৎপেতে থাকে। সাজানো বিয়ের গাড়ি দেখা মাত্রই গাড়ির সামনে চলে আসে। এসময় হিজরারা গাড়ির চাবি নিয়ে নেয়। টাকা পাওয়ার আগ পর্যন্ত নানা অশালিন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে তারা। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হয় গাড়ির যাত্রীদের। অনেকে সম্মান বাঁচাতে হিজরাদের দাবিকৃত টাকা মিটিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন।

ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এবিষয়ে কেউ কোন অভিযোগও করেনি। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।