বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০১৮

আতিয়া মহল আবারও আলোচনায়,ভাড়াটেরা ফিরছেন!

আজকাল প্রতিবেদন:২০১৭ সালের সবচেয়ে আলোচিত ছিল সিলেটের "আতিয়া মহলে" জঙ্গি আস্তানার সন্ধান ও ভবনটি জঙ্গিমুক্ত করতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সেনা কমান্ডোদের ‘অপারেশন টোয়ালাইট’। এ অভিযানে পাঁচতলা ভবনের বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মেরামত শেষে এবার ৩০ ফ্ল্যাটের মধ্যে ২৭টি ফ্ল্যাটেই ভাড়াটেরা উঠেছেন। বাকি তিনটিতে এ সপ্তাহে ভাড়াটেরা উঠবেন বলে জানিয়েছেন ভবন মালিক উস্তার আলী।

গত ২৩ মার্চ দিনগত রাত আড়াইটায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকায় এ জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরদিন সকালে পাঁচতলা ভবনের ২৯টি ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে আটকে থাকা ৭৮ নারী, পুরুষ ও শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা।


২৪ মার্চ সকাল থেকে ২৮ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘অপারেশন টোয়ালাইট’ নামের টানা পাঁচদিনের অভিযান শেষে জঙ্গিমুক্ত করা হয় আতিয়া মহল। নিহত হন এক নারীসহ চার জঙ্গি।

২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ভবন সংলগ্ন পাঠানপাড়া দাখিল মাদরাসার পশ্চিম পর পর দু’দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদসহ ৭ জন নিহত হন। আহত হন আরও অর্ধশতাধিক। ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় অপারেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান।

এরপর ১০ এপ্রিল পর্যন্ত র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল অপারেশন ক্লিয়ারিং চালানো হয়। ঘটনার ১৭ দিন পর ১১ এপ্রিল ভবনটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত ছিল আতিয়া মহলের পাঁচতলা ভবনটি। পাঁচতলা ওই ভবনের নিচের দু’টি তলার আটটি ফ্ল্যাট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।

বিশেষত নিচ তলায় জঙ্গিরা বিস্ফোরণ ঘটানোয় সেখানে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছিল বেশি। ফলে ওই অংশ একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া দেয়ালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল অসংখ্য গুলির চিহ্ন। গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াতে ভবনটি বসবাসের উপযুক্ত নয়। ভবন থেকে উৎকট গন্ধও বের হচ্ছিল। এ কারণে বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে ফেলা হয়।


অভিযানের আট মাসের মাথায় ভবনের সব ক্ষতচিহ্ন মুছে ফেলা হয়েছে। নতুন করে সাজানো হয়েছে পুরো ভবন। পড়েছে সেই আগের মতো ‘টিয়া’ কালারের রঙয়ের প্রলেপও। দেয়ালেও নেই কোনো গুলির চিহ্ন। নতুন করে লাগানো হয়েছে দরজা-জানালাও। সংযোজন হয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ আর পানির নতুন লাইনও। এ আটমাসেই ক্রমশ মুছে ফেলা হয়েছে আতিয়া মহলের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সব চিত্র।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা উস্তার আলী জানান, অভিযানের পরে যখন তার কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়েছিল- তখন একেবারে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভবনটি তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের লাইনসহ সবকিছুই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি নিচ তলা এবং দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলো একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত ছিল। তিনি ভবন বুঝে পাওয়ার পর নতুন করে সব মেরামত কাজ করিয়েছেন। এতে তার প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে পাঁচতলা ভবনের ৩০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২৭টি ফ্ল্যাটেই উঠেছেন ভাড়াটে। বাকি তিনটি ফ্ল্যাটেও চলতি সপ্তাহে ভাড়াটে উঠবেন। ভাড়াটেদের মধ্যে আগের তিনটি পরিবারও রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।