সোমবার, ২২ জানুয়ারী, ২০১৮

হোটেলে মেহেরপুরের ২০৬ নাম্বার কক্ষে আমরা আছি। আমরা আত্মহত্যা করছি…

স্টাফ রিপোর্ট:সোবহানীঘাট পয়েন্টের আবাসিক ‘হোটেল মেহেরপুর’ থেকে উদ্ধার হওয়া হিন্দু ধর্মাবলম্বী তরুণ-তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য। জানাগেছে তাদের মধ্যে গভীর প্রেম ছিলো।

মেয়েটি বিয়ে অন্যত্র ঠিক করে ফেলেছিলেন তাঁর স্বজনরা। এটি মানতে নারাজ ছিলেন ওই তরুণী।


প্রেমিক মিন্টু দেবক সাথে নিয়েই তিনি কি পরপারে চলে গেলেন সে বিষয়টি এখনো পরিস্কার হয়নি। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। ‘আজ পোস্টমর্টেম পরে বোঝা যাবে হোটেল মেহেরপুরে আসলে কি ঘটেছিলো?’ এমনটিই বলছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন।

মুসলিম দম্পতি পরিচয়ে হোটেলে ওঠে। দুপুর ১২ টার দিকে তারা হোটেলটির দ্বিতীয় তলার ২০৬ নাম্বার রুমটি ভাড়া নেয়। এরপর রাত ১০ টার দিকে দরজা ভেঙে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই তরুণী হচ্ছেন রুমী পাল। সে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট উজানীনগরের মিলন পালের মেয়ে। আর ছেলে মিন্টু দেব একই উপজেলার জগন্নাথবাড়ি গ্রামের মতিলাল দেবের ছেলে।

হোটেলের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘হোটেলে ওঠার পর সন্ধ্যার দিকে মেয়েটি তাঁর দুলাভাইয়ের মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠায়, হোটেলে মেহেরপুরের ২০৬ নাম্বার কক্ষে আমরা আছি। আমরা আত্মহত্যা করছি…। মেসেজটি পেয়ে তিনি দ্রুত হোটেল মেহেরপুরে হাজির হন।

তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষকে রুমটি খোলার কথা বলেন। তখন তারা বলে রুমে তো মুসলিম দম্পতি রয়েছেন। এভাবে রুমে ডাকা নিয়মের মধ্যে পড়েনা। পরে তিনি মোবাইল ফোনের মেসেজ দেখালে হোটেলের ম্যানেজার পুলিশকে বিষয়টি খবর দেন। এরপর রুমে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোন সাড়া মেলেনি। একপর্যায়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ফেলে।’

তখন রুমের ভিতরে মিন্টু দেবের মরদেহ রুমী পালের ওড়না দিয়ে ঝুলানো ছিলো। আর রুমী পালের মরদেহ বিছানাতে ডান দিকে মুখ করে শোয়ানো ছিলো।

ঘটনাস্থলে থাকা ওই দুলাভাইয়ের বরাত দিয়ে হোটেল সূত্র জানিয়েছে- ‘মেয়েটির বিয়ে অন্যত্র ঠিক করেছিলেন তার পরিবারের লোকজন। বিষয়টি মানতে না পেরেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। এমনটি নাকি বলাবলি করছিলেন নিহত রুমী পালের দুলাভাই। যাকে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন রুমী।’

পরে একজন নারী পুলিশ সদস্যরা মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করেন। আর পুরুষ পুলিশ সদস্যরা ছেলের মরদেহ নামিয়ে বেগে ভরে ময়না তদন্তের জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিকেলে পাঠান। আজ মরদেহ দু’টির ময়না তদন্ত হওয়ার কথা।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন। রবিবার রাত ১০ টার দিকে পুলিশ মরদেহ দু’টি উদ্ধার করার পর লাশ দু’টি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে।