বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

ফারমার্স ব্যাংকের দুরবস্থার জন্য পরিচালনা পর্ষদকে দুষলেন এমডি

ফারমার্স ব্যাংকের দুরবস্থার জন্য ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদকে দুষলেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম শামীম। বুধবার(১৩ ডিসেম্বর) ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম শামীমকে তলব করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী কমিটি। ব্যাংকের এমডিদের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী কমিটি তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। 
এর আগে সকাল এগারোটার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তলবে জারি হন এ কে এম শামীম। বৈঠকে তিনি জানান, ব্যাংকটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষকে তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়নি। 

দৈনন্দিন কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদ হস্তক্ষেপ করতো। এ কারণেই ব্যাংকটিতে বড় বড় অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকটির সার্বিক ব্যর্থতার দায় নিতে চাননি ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছেন, ফারমার্স ব্যাংক কার্যক্রম শুরুর আগে থেকে নানা অনিয়মে জড়িয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের আগে থেকে অফিস ভাড়া দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেওয়া হয়। তখন অবশ্য তিনি এমডি ছিলেন না। এভাবে পর্ষদ শুরু থেকে নানা অনিয়মের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ব্যবহার করেছে। যেখানে এমডিসহ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম কাজের স্বাধীনতা পাননি। ফলে চাইলেও অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হয়নি।
জিজ্ঞাসাবাদে ফারমার্স ব্যাংকের এমডি বলেছেন, পরিচালকদের অনেকেই নিয়মিত অফিসে আসতেন। পর্ষদের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর সবকিছু করতেন। তিনি শাখাপর্যায়েও যোগাযোগ করতেন। শাখা ব্যবস্থাপকদের দিক-নির্দেশনা দিতেন। ফলে তারা অনেক সময় আমার নির্দেশনাও মানতে চাইতেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘শাখা ব্যবস্থাপকরা অনেকেই মনে করতেন, চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রয়েছে। তাই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে গুরুত্ব পায়নি অনেক সময়। এমনকি ঋণ অনুমোদন ও ছাড় করে তা পরে অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতেন তারা। এটি ছিল ব্যাংকটির সুশাসন ও ব্যর্থতার বড় কারণ। এভাবে ঋণ বিতরণে অনিয়ম হলেও এমডি হিসেবে কিছু করার ছিল না। অনেক শাখা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে এমডি হিসেবে যোগাযোগ করলে তারা পর্ষদের সিদ্ধান্তের কথা জানাতেন।
নিজেকে নিদোর্ষ দাবি করে এ কে এম শামীম বলেন, এর আগে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পেরে ব্যাংকটির একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক চাকরি ছেড়ে অন্য ব্যাংকে যোগ দিয়েছেন। তিনিও পর্ষদের কাছে জিম্মি ছিলেন। তারল্য সংকটের দায় প্রধান নির্বাহী এড়াতে পারেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ফারমার্স ব্যাংকের এমডি বলেন, এখানেও তার নিজের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার ছিল না। তিনি সব কিছু পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যানের নির্দেশে করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নতুন ঋণ বিতরণের বিষয়ে স্থায়ী কমিটির প্রশ্নে ফারমার্স ব্যাংকের এমডি বলেন, এটি আমি বাংলাদেশ ব্যাংকে একপর্যায়ে জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ভয় থেকে তা করতে পারিনি।তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনকারী দলকে তিনিই এ তথ্য দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেন, আমরা ফারমার্স ব্যাংকের এমডিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এরপর এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে গভর্নরের কাছে পাঠাবো। তারপর সব জানা যাবে।