শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৭

প্রবীণ ফটো সাংবাদিক আতাউর রহমান আতার উপর হামলা

সিলেটের প্রবীণ ফটো সাংবাদিক আতাউর রহমান আতার উপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে নগরীর মাছিমপুর এলাকার কতিপয় সন্ত্রাসী। ওই এলাকায় তীর শিলংসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত নজরুল ও তার সহযোগীরা এ হামলার নেতৃত্ব দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সন্ত্রাসীরা আতার বাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এতে আতাউর রহমান আতার মেয়েসহ প্রতিবন্ধী এক ছেলে আহত হন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর ৬৩ মেন্দিবাগ এলাকার আতাউর রহমান আতার বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নজরুলে বাসায় অভিযান চালালেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তাৎক্ষণিকভাবে বাসায় উপস্থিত হয়ে অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। 

এ ঘটনায় রাতেই থানায় এজাহার দাখিল করা হয়েছে। প্রবীণ সাংবাদিক আতার উপর হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

আতাউর রহমান আতা জানান, তাঁর বাড়ির ঠিক সামনে মূল সড়কের পাশে মাছিমপুর এলাকার মডার্ণ বাড়ির জালাল উদ্দিনের পুত্র নজরুল ও মঞ্জুরসহ ৮/১০ যুবক এক কিশোরকে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেধে মারধর করছিলো। 

মারধরের দৃশ্য দেখে তিনি তাদেরকে এ থেকে নিবৃত থাকতে বলেন। এক পর্যায়ে ওই কিশোরকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তারা সাংবাদিক আতার ওপর চড়াও হয়। কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা আতাউর রহমান আতাকে মারধর করতে থাকে।

এর কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোনে কল করে আরো অন্ততঃ ১০/১৫ জন সহযোগীকে নিয়ে আসে নজরুল। তারা আতাউর রহামন আতার বাড়ি লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে তারা বাসায় ঢুকে তাকে বেধড়ক মারপিট করে। এ সময় তার মেয়ে শাহানা আক্তার সুমী এগিয়ে এলে তার উপর হামলা চালায়। তখন সাংবাদিক আতার প্রতিবন্ধিপুত্র রনিকেও মারধর করে। পরে হামলাকারীরা শয়ন কক্ষে ঢুকে বিছানা ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং ছেলের চিকিৎসার জন্য ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান প্রবীণ সাংবাদিক আতাউর রহমান আতার বাড়িতে উপস্থিত হন। তিনি তাৎক্ষনিকভাবে আতাউর রহমান আতার উপর হামলাকারী নজুরুল ও মঞ্জুরসহ তাদের সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের প্রতি আহবান জানান। এছাড়া সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার ফয়সল মাহমুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

রাত ১টায় সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির জানান, আতাউর রহমান আতার উপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল একাটি এজাহার কতোয়ালী থানায় দাখিল করেছেন। তারা দ্রুত আসামীদের গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

অন্যদিকে সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীণ ফটো সাংবাদিক আতাউর রহমান আতার উপর হামলার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেরকর্মীরা বাসায় ভিড় জমান। তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান তারা। এছাড়া এলাকাবাসীকে তীর শিলংসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের মূল হোতা নজরুল ও তার আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহবান জানান। অন্যথায় সাংবাদিকরা কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির, সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হক জুবের, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ মো. রেনু, মঈনুল হক বুলবুল, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগের সভাপতি আব্দুল বাতিন ফয়সল, দৈনিক সিলেট বাণী সম্পাদক ওবায়দুল হক চৌধুরী মাছুম, সিলেট প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন শিহাব ও ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. আবদুল আহাদ, সাংবাদিক ফয়সাল আমীন, এম এ হান্নান, ইয়াহইয়া ফজল ও নূর আহমদ, শুয়াইবুল ইসলাম, শাহজাহান সেলিম বুলবুল প্রমুখ।

রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এসএমপির উপ কমিশনার ফয়সল মাহমুদ সাংবাদিক আতাউর রহমান আতার উপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না।