মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭

২২ বছর যাবৎ পতাকা বিক্রি করা যার পেশা

স্টাফ রিপোর্ট:আজ দুপুর সাড়ে ১২টা। নগরীর বন্দরবাজার পেপার পয়েন্টে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধ সারিবদ্ধভাবে সাজাচ্ছিলেন আমাদের জাতীয় পতাকা। দিনের শুরুতে পতাকা সাজিয়ে রেখে সারাদিন রাস্তার এক কোনে দাঁড়িয়ে পতাকা বিক্রি করেন তিনি। সেই বৃদ্ধ ব্যাক্তিটি শামস উদ্দিন। যার জীবনের দীর্ঘ ২২ বছর কেটেছে আমাদের জাতীয় পতাকা বিক্রিতে। এমনকি নিজের জীবিকাও নির্বাহ করেছেন সেই পতাকা বিক্রির আয়ে।

শামস উদ্দিন বলেন, ২২ বছর যাবৎ আমি এই জায়গায় পতাকা বিক্রি করে আসছি। পতাকা বিক্রির আয়েই চলে আমার সংসার। আর কোন কিছু কাজ করে মনে শান্তি পাইনা। পতাকা বিক্রি করে মনে একটা আলাদা ত্রিপ্তি পাই।
শামস উদ্দিনের বয়স ৫৫ বছর। কানের সমস্যা থাকার কিছুটা কম শুনেন। সিলেট সদর উপজেলার টুকের বাজারেই বাড়ি তার। সেখান থেকেই প্রতিদিন এই বন্দরবাজার পেপার পয়েন্টে আসেন। তারপর সেখানে পতাকা সাজিয়ে রাখেন। বেঁচাকেনা মোটামোটি ভালই হয় বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রতিদিনই অনেকেই আসেন পতাকা কিনে নিয়ে যান। বিশেষ করে স্কুল কলেজ, অফিস আদালতের জন্য পতাকা কিনে নিয়ে যান। মাস শেষে ৫, ৭, ১০ হাজার টাকার মত আয় হয়। বিভিন্ন উৎসবে কিছুটা বাড়তি বিক্রি হয়। তখন সেই বাড়তি টাকা দিয়ে অনেকটা পোষিয়ে নিতে হয়।

দুই ছেলে, তিন মেয়ে ও স্ত্রীসহ ৬ জনের সংসার শামস উদ্দিনের। প্রত্যেক সন্তানই পড়াশুনা করছেন। পড়াশুনার খরচও ওই পতাকা বিক্রির টাকা দিয়ে চালাতে। কিছুটা হিমশিম খেলেও দিব্যি হাসিমুখে চালিয়ে যাচ্ছেন পতাকা বিক্রি। তবুও ছাড়ছেন না এই পতাকা বিক্রি।

তিনি বলেন, ছেলে মেয়েদের সকল পড়াশুনার খরচ এই পতাকা বিক্রির টাকা দিয়েই চালিয়ে নিতে হয়। কিছুটা হিমশিম খেলেও মানিয়ে নিচ্ছি। অন্য কিছু শান্তি পাইনা মনে। তাই পতাকা বিক্রি করছি গত ২২ বছর যাবৎ। প্রতিদিন সকালে টুকের বাজার থেকে ১৫ টাকা ভাড়া দিয়ে আসি বন্দরবাজার পয়েন্টে। আবার রাতে ১৫ টাকা ভাড়া দিয়ে চলে যাই বাড়িতে। এভাবেই দীর্ঘ ২২টি বছর কেটে গেছে পতাকা বিক্রির মাধ্যমে।

এই দীর্ঘ ২২ বছর অনেক টানা পোড়নের মধ্য দিয়ে গেলেও পতাকা বিক্রি ছাড়েন নি শামস উদ্দিন। এমনকি কোন চাওয়া পাওয়াও নেই তার। তার একটাই কথা আল্লাহ চালিয়ে নেবেন।