শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৭

সুনামগঞ্জের কৃষকদের জন্য বড় অংকের কৃষি পূনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচি শুরু

স্টাফ রিপোর্ট:হাওর-বাওরের জেলা সুনামগঞ্জের কৃষকদের জন্য স্বাধীনতাত্তোর সময়ের সবচেয়ে বড় অংকের কৃষি পূনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১১ উপজেলার তিন লাখ ৩১ হাজার কৃষকের মধ্যে ৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার সহায়তা তুলে দেওয়া হচ্ছে তিন লাখ বোরো চাষীকে। গত রোববার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান সরকারি এই সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলার ৭ উপজেলায় এই সহায়তা কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ২৬ হাজার ৮৯৩ জন কৃষকের মধ্যে ৫ কেজি বীজ, ২০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার এবং নগদ ১০০০ টাকা বিতরণ হচ্ছে। 


স্থানীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বেলা ২ টায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একইভাবে কৃষি উপকরণ বিতরণ উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য পীর মিসবাহ্। এই উপজেলায় ১৪ হাজার ২৯২ জন কৃষকের মধ্যে সহায়তা তুলে দেওয়া হবে।

গত রোববার দক্ষিণ সুনামগঞ্জে কৃষি উপকরণ বিতরণের মধ্য দিয়ে জেলাব্যাপি কৃষি পূনর্বাসন কার্যক্রম’এর উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। এই উপজেলায় ২৯ হাজার ২২৭ জন কৃষকের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

জগন্নাথপুরের কৃষকদের হাতেও কৃষি উপকরণ তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। জগন্নাথপুরে ২৩ হাজার ৪৮৪ জন কৃষকের মধ্যে সহায়তা বিতরণ হয়েছে।

দোয়ারাবাজার ও ছাতকে কৃষি সহায়তা কার্যক্রম বিতরণের উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক। দোয়ারাবাজার উপজেলায় সহায়তা পাচ্ছেন ২২ হাজার ১৫৫ জন কৃষক।
ধর্মপাশায় কৃষি উপকরণ বিতরণ শেষ পর্যায়ে। ঐ উপজেলায় ৪৫ হাজার ৩৬৪ জন কৃষকের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ হবে।

জামালগঞ্জ উপজেলায় ২৮ হাজার ৯৬৫ জন কৃষকের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ হবে। আগামী রোববার সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এই উপজেলায় ২৯ হাজার ৯৪৮ জন কৃষক কৃষি সহায়তা পাবেন। দিরাইয়ে রোববার বিতরণ শুরু হয়েছে। এই উপজেলায় ৩৬ হাজার ২৯১ জন কৃষক সহায়তা পাবেন। শাল্লায় পাবেন ২৪ হাজার ৬১৫ জন কৃষক।

প্রত্যেক কৃষককে কৃষি পূনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য দেওয়া হবে নগদ এক হাজার টাকা করে। যার যার ব্যাংক হিসাবে এই টাকা জমা দেওয়া হবে। নিকটবর্তী তফশিলি ব্যাংকগুলোতে ১০ টাকা দিয়ে ব্যাংক হিসাব খোলেছেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক সুনীল কুমার মল্লিক জানান, তাঁর জানা মতে একসঙ্গে এতো কৃষককে কৃষি পূনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় সহায়তা প্রদান সুনামগঞ্জে এটাই প্রথম। তিনি জানান, মঙ্গলকাটা কৃষি ব্যাংকে সুরমার উত্তরপাড়ের সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের চার হাজার ৪৭ জন কৃষকের হিসাব খোলার কাজ শেষ পর্যায়ে। এভাবে সারা জেলায়ই ১০ টাকা দিয়ে ব্যাংক হিসাব খোলছেন কৃষকরা। ঐ হিসাবে তাঁদের টাকা জমা হবে এবং চেকের মাধ্যমে তা উত্তোলন হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাহেদুল হক বললেন,‘স্বাধীনতাত্তোর কেবল নয়, সুনামগঞ্জে এর আগেও কখনো একসঙ্গে এতো টাকার কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম হয়েছে বলে তথ্য নেই আমার কাছে। সহায়তা বিতরণ ৭ উপজেলায় শেষ পর্যায়ে। অন্য ৪ উপজেলায় আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।