সোমবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৭

এমপিওভুক্তি সফটওয়্যার সমস্যায় শিক্ষকদের অশেষ ভোগান্তি

আজকাল প্রতিবেদন:এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়াকরণ ও বেতন-ভাতার জন্য ব্যবহার করা সফটওয়্যারটির নানামুখী সমস্যায় অশেষ ভোগান্তি  পোহাতে হচেছ হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর। এছাড়াও সফটওয়্যারের সমস্যার কারণে সরকারের কোষাগার থেকে গচ্চা যাচ্চছ কোটি কোটি টাকা। অথচ সফটওয়্যারের সরবরাহকারী ঠিকাদার কোম্পানীর লোকজন নিয়মিত শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালক ও উপ-পরিচালকের কক্ষে ঘুরঘুর করেন।  সফটওয়্যারের ত্রুটি দেখভাল করার জন্য প্রতিমাসে সরকারি কোষাগার থেকে টাকাও নেন সিনোসিস আইটির এই কথিত বিশেষজ্ঞরা। এমপিওর জন্য আবেদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে নানা ভোগান্তিতে থাকা শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন দৈনিক শিক্ষার কাছে। অনুসন্ধানেও প্রমাণ মিলেছে এসব অভিযোগের।


অনুসন্ধানে জানা যায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেয়ার প্রক্রিয়াকরণ করতে এমপিও সফটওয়্যারে এমপিও প্রোসেসিং এর কিছু অংশে ম্যানুয়াল কমান্ডের মাধ্যমে কাজ করতে হয়। এভাবে কাজ করতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার বেতন-ভাতা এভাবে প্রক্রিয়া করতে অনেক দেরি হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  প্রধানরা পাসওয়ার্ড  ভুলে গেলে  অধিদপ্তরের অাঞ্চলিক প্রোগ্রামারদের পাসওয়ার্ড দিয়ে থাকেন। কিন্তু আধুনিক সফটওয়্যারে অন্য কারো পাসওয়ার্ড জানার কোন সুযোগ থাকে না। কেউ পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে তার ই-মেইল বা মোবাইলে পাসওয়ার্ডদিয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও বর্তমান নিয়মে কাজ করতে সিস্টেম এ্যানালিস্ট/প্রোগ্রামারদের অহেতুক কর্মঘন্টা নষ্ট হয়।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার প্রক্রিয়া এবং  অনলাইন এমপিও’র কাজ  ‍দুটি সফটওয়্যার থেকেই একই ডাটাবেজে কাজ হচ্ছে। কিন্তু ভিন্ন ভিন্নভাবে তথ্য হালনাগাদ হওয়ায় ডাটাবেজ ব্যবহারে সমস্যা হয়।

এমপিওসংশ্লিষ্ট্ কর্মকর্তারা জানান,  প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করার জন্য একবার প্রতিষ্ঠান কোড একবার প্রতিষ্ঠান নাম্বার বা ইআইএন নাম্বার ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষককে শনাক্তকরণের জন্য একবার ইনডেক্স একবার শিক্ষক নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে।  যেমন কোন একটি নতুন বিভাগ হলে ওই বিভাগের যতগুলো প্রতিষ্ঠান আছে সবগুলোর বিভাগের তথ্য হালনাগাদ করতে হয়। এসব কারণে ডাটাবেজ থেকে সঠিকভাবে প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব হয় না।

অনলাইনে আবেদন করার সময় যে ইনপুট দেয়ার দরকার নাই এমন তথ্যও আবেদনকারীরা ইচ্ছে করলে দিতে পারে। কিন্তু তথ্য দেয়ার পর সেটা পরিবর্তন করতে পারে না। প্রায় কোটি টাকায় কেনা এমপিওসফটওয়্যারটিতে এ্যাপ্লিকেশনে লগইন করার জন্য টু ওয়ে অথেনটিকেশন রাখা হয়নি। এ্যাপ্লিকেশনের ইউজারগুলোর জন্য রোল অনুযায়ী ইউজার ফাকা করা হয়নি। অথচ তা অত্যন্ত জরুরী। সফটওয়ারটিতে ডাটাবেজ লেভেল নিরাপত্তার বিভিন্ন ফিচারসমূহের কোন রুপরেখা তৈরি করা নেই। এছাড়া এ্যাপ্লিকেশন ইউজার ম্যানেজমেন্টে ব্যাপক সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে।

শিক্ষক-কর্মচারিদের অনলাইন আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজের যে সংযুক্তিগুলো থাকে সেগুলো স্টোরেজে না রেখে এ্যাপ্লিকেশন সার্ভারে রাখা হয়। এতে প্রায়েই সার্ভারের ধারণক্ষমতা কমে গিয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যেই ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের সংযুক্তি ম্যানুয়ালি কপি করে স্টোরেজে রাখা হয়েছে। এতে কোন কারণে সেসব দেখার প্রয়োজন হলে দেখা বা প্রিন্ট করা যায় না।

অনলাইন আবেদন করতে এবং সেগুলো অনুমোদন ও বাতিল প্রক্রিয়াটিতে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া এনআইডি যাচাই করা সম্ভব নয় বলে অনেক আবেদনকারী একাধিকবার এমপিওভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে অনলাইনে জন্ম তারিখ যাচাই, এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন সনদ ইত্যাদি যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

সফটওয়্যারের সমস্যা সমাধানের কী উদ্যোগ নেয়া হবে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার নব নিযুক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা গেছে। রোববার (১২ নভেম্বর) এক সভায় বিস্তারিত আলোচনা ও সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।’