বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৭

সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে সিলেট ১ আসনে আওয়ামীলীগ এর প্রার্থী করা হচ্ছেন

আজকাল প্রতিবেদন:সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনেই প্রার্থী রাখছে আওয়ামী লীগ। সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বস্থানীয় সূত্র এই পূর্বাভাস দিয়ে জানিয়েছে, নির্বাচন নিয়ে বিএনপি’র ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণী কুট-কৌশলের ওপরই নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতার বিষয়টি। এ জন্য বিএনপি’র প্রতি ক্ষমতাসীন দলটির সর্তক পর্যবেক্ষণও রয়েছে। বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করলে আওয়ামী লীগও এককভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে দেখা যেতে পারে। এ চিন্তাভাবনা থেকেই হাইকমান্ড ৩০০টি সংসদীয় আসনেই প্রার্থিতা চূড়ান্ত করে রাখছে। অপরদিকে, বিএনপি জামায়াতকে নিয়ে জোটগতভাবে লড়াইলে নামলে আওয়ামী লীগও বর্তমান শরীকদের নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনে দলীয় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবে। 



সম্ভাব্য ওই আসনগুলোতে মাঠে নামার নির্দেশ দেয়া হবে। যদিও মনোনীত এসব প্রার্থীদের সময়মতো জোটের প্রশ্নে ছাড় দেয়ার মানসিকতায় নিজেদের তৈরি রাখার ইঙ্গিত থাকছে। এ প্রার্থী তালিকার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে গোটা নির্বাচনী লড়াইয়ের হিসাব-নিকাশের ওপর। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আশাপ্রকাশ করে বলেছেন, বিএনপি আবারও নির্বাচনী অংকে ভুল করবে না। তারা বিগত নির্বাচন বর্জন করে যে ভুল করেছে সেথেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছে বলে মনে হচ্ছে তাদের কথাবার্তায়। সংসদীয় মনোয়ন বোর্ডের সদস্য সচিব ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং তা কেবল বিএনপির অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন বিকল্প পথ নেই, শেখ হাসিনা সরকারের অধীনেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে হবে, এবং তারা নেবেও।

এদিকে সরকারের হাইকমান্ড গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পৃথক রিপোর্ট বিচার-বিশ্লষণপূর্বক ৩০০ আসনে একটি প্রার্থী তালিকা তৈরি করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। সূত্র মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে হাইকমান্ড প্রার্থি তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে শরীক দলগুলোর বর্তমান আসনগুলোর প্রতি দৃষ্টি রেখেছেন। স্বল্পসংখ্যক আসন প্রার্থী নির্বাচন বাদ রাখা হয়েছে শরীক দলগুলোর কয়েকজন সংসদ সদস্যের কথা মাথায় রেখে। নির্বাচনের প্রাক্কালে তারা মনোনয়নের বিনিময়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করবেন বলে জানা যায়। হাইকমান্ড কর্তৃক তৈরিকৃত মনোনয়ন তালিকাটি এই মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও শিগগিরই মনোনীত প্রার্থীদের মৌখিকভাবে মাঠে নামার নির্দেশ দেয়া হবে হাইকমান্ড থেকে। প্রার্থী তালিকাটি যথাসময়ে দলের সংসদীয় বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলেও জানা গেছে। অনিবার্য কারণ ব্যতীত তালিকায় খুব একটা যোগ-বিয়োগের সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করেছে এ সূত্রটি। সূত্র মতে,”অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা” নেয়ার নীতিগ্রহণ করে আওয়ামী লীগ তার গতি প্রকৃতি নির্ধারণ করছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নাম ও আসন নিম্নে দেয়া হলো। 

সিলেট-১ ডঃ আবুল মোমেন, সিলেট-২ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট-৪ ইমরান আহমেদ, সিলেট-৫ মাশুক উদ্দীন, সিলেট-৬ নুরুল ইসলাম নাহিদ, হবিগঞ্জ-১ আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া, হবিগঞ্জ-২ আব্দুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ-৩ । সুনামগঞ্জ-১ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-২ জয়া সেন গুপ্তা, সুনামগঞ্জ-৩ আজিজ উস সামাদ ডন, সুনামগঞ্জ-৪ পীর ফজলুর রহমান, সুনামগঞ্জ-৫ মহিবুর রহমান মানিক। মৌলভীবাজার-১ আব্দুল মতিন, মৌলভীবাজার-২, মৌলভীবাজার-৩, মৌলভীবাজার-৪ উপাধ্য আব্দুস শহীদ।