শনিবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৭

রোহিঙ্গাদের ঘরে ত্রাণ রাখার আর জায়গা নাই!

আজকাল বিশেষ প্রতিবেদন:উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির বালুখালী-২। সোমবার দুপুর আড়াইটা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ত্রাণ বিতরণ করে ফিরে যাচ্ছেন। মাথায় ১০ কেজি ওজনের ত্রাণের চাল মাথায় নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছেন রোহিঙ্গা শরণার্থী ইসমাইল। ইসমাইল অপর রোহিঙ্গা শরণার্থী মকবুলকে ডেকে বলছেন- ‘এই রোহিঙ্গা, চাল নিবি না?’ জবাবে মকবুল বলল, আর কত! লাগলে আমার ঘর থেকে এক বস্তা নিয়ে আয়।’

পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য হাসতে হাসতে ইসমাইল ও মকবুলের কথোপকথন অনেকটা রোহিঙ্গা আঞ্চলিক ভাষা থেকে অনুবাদ করে বুঝিয়ে দেন এই প্রতিবেদককে। তারা বলেন, রোহিঙ্গারা চাল পেতে পেতে এত বেশি পেয়েছে যে, এখন আর চাল নিতে চায় না। অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঘর আছে যেখানে ত্রাণ রাখার জায়গাও নেই।

খালেদা জিয়া চলে যাওয়ার পর ত্রাণ নিতে দাঁড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে দেখা গেল শিশুদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক, যারা একটি একটি করে ত্রাণের চালের বস্তা নিয়ে ছুটে চলে যাচ্ছে।
এরপর উখিয়া কুতুপালংয়ের একাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঘরে উঁকি দিয়ে দেখা যায়, ঘরগুলো সাধারণ শামিয়ানার ওপর হলেও কোনো ঘরেই এখন আর আসবাবপত্র ও নিত্য ব্যবহার্য জিনিসের কমতি নেই। গ্যাস সিলিন্ডার, চুলা, জগ-গ্লাস, থালা-প্লেট, জামা-কাপড় সবই আছে পর্যাপ্ত। কোনো কোনো ঘরে এত বেশি ত্রাণের বস্তা রাখা আছে যে সেসব ঘরে আর কোনো বাড়তি জিনিস রাখার জায়গা নেই।

এসব বিষয়ে কথা বললে পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ত্রাণ বিতরণে যে হিমশিম খাচ্ছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন তা অনেকটাই স্বীকার করে নেন জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, সারাক্ষণ মনিটরিং রাখতে হলে তিন থেকে চারশ সার্বক্ষণিক বাড়তি লোক দরকার যা নেই। শঙ্কা আছে, তারপরও চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ত্রাণ চুরি হচ্ছে না, তবে অনেক জায়গাতেই রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের কাছে অথবা আগে যারা এসেছেন তাদের কাছে ত্রাণ বিক্রি করে দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ত্রাণ বিতরণে ডুপ্লিকেশন হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার থেকে সাত দিন ব্যক্তি ও অন্য বেসরকারি সংস্থার ত্রাণ বিতরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান মোহাম্মদ আলী হোসেন।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত যে ত্রাণ আছে তা পর্যাপ্ত। এখন পর্যন্ত বিদেশি বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো থেকে পাওয়া ত্রাণে হাত দিতে হয়নি। পচনশীল ছাড়া বাকি ত্রাণ জেলা প্রশাসন গোডাউনে রেখে দিচ্ছে।

এছাড়াও আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকল রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ওয়ার্ল্ড ফুড অর্গানাইজেশন (ডব্লিওএইচও) খাওয়ানোর দায়িত্ব নেওয়ায় বাড়তি ত্রাণ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। যে যার মতো পরিমাণ ঠিক করে প্যাকেটে করে ত্রাণ নিয়ে আসাতেও কখনো দরকারের চেয়ে কমবেশি হচ্ছে বলেও জানান কক্সবাজার জেলা প্রশাসক।