শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৭

ব্রিটেনে এসিড হামলার দায়ে বাংলাদেশি যুবক কারাগারে

আজকাল প্রবাসে বাঙালি:ব্রিটেনে এসিড হামলার দায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। এর আগে পূর্ব লন্ডনের ওই হামলার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় কাহা মিয়া নামের ওই আসামি। কাহা মিয়া পূর্ব লন্ডনের ফরেস্টগেইট এলাকায় বসবাস করেন।কাহা মিয়ার সঙ্গে তার এক সহযোগীকেও ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে বয়স কম (১৬ বছর) হওয়ায় তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাকে ইয়ুথ অফেন্ডার্স ইনস্টিটিউশনে পাঠানো হবে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের স্নেয়ারবুক ক্রাউন কোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন।

এই মামলার তদন্তকাজ পরিচালনা করেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ সার্জেন্ট রিচার্ড লিউসলে। তিনি বলেন, এই শাস্তি এ ধরনের অপরাধের ব্যাপারে পুলিশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। এ ধরনের যেকোনও ঘটনা নিখুঁতভাবে তদন্ত করা হবে। অনুরোধ থাকবে, এ জাতীয় ক্ষতিকর পদার্থ বহনের সঙ্গে জড়িত যে কাউকেই যেন এভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।



তিনি আরো বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে এই পদার্থগুলো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়। ঘটনার শিকার ব্যক্তির ওপর এটি ব্যাপক মাত্রায় স্থায়ী প্রভাব ফেলে।

চলতি বছরের ২০ মার্চ ওই অ্যাসিড হামলার শিকার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুজনের জবানবন্দি নেন আদালত। তাদের নাম মুসা মিয়া ও সৈয়দ বাশার। সেদিন তারা পূর্ব লন্ডনের একটি ভবনের ১১ তলা থেকে তাদের গাড়ির ওপর নজর রাখছিলেন। এমন সময় দেখতে পান সেখানে লাঠি নিয়ে একদল যুবক বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। ওই যুবকদের থামাতে ঘটনাস্থলে যান মুসা মিয়া। বন্ধু মুসা মিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে সৈয়দ বাশারও সেখানে পৌঁছান।

সেখানে তারা ওই যুবকদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোর (দণ্ডিত) ব্যাগ থেকে একটি বোতল বের করে কাহা মিয়ার হাতে দেয়। সে বোতলের মুখ খুলে তা থেকে তরল পদার্থ ওই ভিকটিম দুজনের মুখের ওপর ছুড়ে মারে। এতে তারা মারাত্মকভাবে আহত হন। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।


                                                       ছবিতে এসিড আক্রান্ত মুসা মিয়া

২০১২ সাল থেকে ইংল্যান্ডে অ্যাসিড জাতীয় পদার্থ দিয়ে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ ধরনের ঘটনা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে এ ধরনের ঘটনা ঘটে ২৬১টি। গতবছর হয় ৪৫৮টি হামলা।