মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৭

ফুটপাত দখলদার সিলেটের হকার্স লীগ সভাপতি গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্ট:সিলেট নগরের ফুটপাত দখলদার ও তাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে পরোয়ানাভুক্ত আসামি মহানগর হকার্সলীগের সভাপতি রকিব আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।রোববার রাতে কোতোয়ালি থানায় ডেকে নিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বলে জানান কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফায়াজ আহমদ ফয়েজ।১৮ অক্টোবর সিলেট মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো হকার্সলীগ নেতা রকিবসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে গত ১৬ অক্টোবর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও কোতোয়ালি থানার ওসি গৌছুল হোসেন ফুটপাত দখলকারীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে ৩৮ জনের তালিকা আদালতে জমা দেন। সেই তালিকা অসম্পূর্ণ হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত। এরপর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন আদালতে হাজির হয়ে একটি তালিকা জমা দেন। এই তালিকার জমা দেয়ার পর আদালত ২৬ জনের বিরুদ্ধে সিআর মামলা নথিভুক্ত করেন। এরপর এদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন।


হকার্সলীগ নেতা রকিব আলী ছাড়াও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় মহানগর হকার্স কল্যাণ সমবায় সমিতির সহসভাপতি আতিয়ার রহমান, শফিক আহমদ, আবুল বাশার, রুহুল আমিন রুবেল, মখলেসুর রহমান, আব্দুল আহাদ, সাধারণ সম্পাদক খোকন ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রুমন আহমদ, জিন্দাবাজার অটোরিকশা স্ট্যান্ডের আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ইসলাম উদ্দিন, শফিক উদ্দিন, সদস্য সচিব ইউসুফ আলী, মধুবন পয়েন্ট ইমা/লেগুনা স্ট্যান্ডের সভাপতি সোহাগ মিয়া, সহসভাপতি মো. আদিল, সম্পাদক মো. কবির মিয়া, অর্থ সম্পাদক মো. বাবুল মিয়া, রংমহল টাওয়ার অটোরিকশা-সিএনজি স্ট্যান্ডের সভাপতি আজমল হোসেন, সহসভাপতি মুরাদ হোসেন, ধোপাদিঘির পাড় ইমা-লেগুনা স্ট্যান্ডের সভাপতি সাহাবউদ্দিন সাবু, সহসভাপতি ফয়জুল মিয়া, কার্যকরী সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর নুর হিরণ, কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ ও অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন আম্বরখানা-সালুটিকর শাখার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য তেরা মিয়ার বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, জেলা আইনজীবী সমিতির লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ মে ফুটপাত দখলকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে সিটি মেয়রকে নির্দেশ দেন মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। এ ক্ষেত্রে মেয়রকে সহযোগিতার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকেও নির্দেশ দেন আদালত। এ নির্দেশের প্রেক্ষিতে গত ৩০ মে নগরীর ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সিসিক।

এ বৈঠকের পর গত ১ জুন থেকে নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা এলাকায় ফুটপাতে অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে সিসিক। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সে অভিযানে ভাটা পড়লে অবৈধ দখলদাররা ফিরে আসে।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও ফুটপাত দখলকারী ও তাদের মদদদাতাদের তালিকা সংবলিত প্রতিবেদন জমা দিতে গড়িমসি করে সিসিক। গত ৮ জুন মেয়র প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করলে তাকে এক মাসের সময় দেওয়া হয়। এরপর আরও তিন মাস অতিবাহিত হলেও মেয়র প্রতিবেদন দাখিল করেননি।

একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েও কেন আদালতের আদেশ মেনে প্রতিবেদন দাখিল করছেন না, তার ব্যাখ্যা দিতে গত ৭ অক্টোবর তাকে আদালতে তলব করা হয়। এতে ১৬ অক্টোবর আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো। এই নির্দেশের পর তালিকা নিয়ে আদালতে হাজির হন মেয়র ও কোতোয়ালি থানার ওসি।