সোমবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৭

উত্তরা ব্যাংকের প্রশ্ন "লাখ টাকায় বিক্রি হয়"মূলহোতা চিহ্নিত

ডেস্ক রিপোর্ট:৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রি হয় উত্তরা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপত্র। জানা গেছে, ব্যাংকের সিবিএ-র সাবেক এক নেতা প্রশ্নফাঁস ঘটনার মূলহোতা। আহসান হাবীব নামের ওই সিবিএ-নেতার সাথে জড়িত ছিল ৪-৫ সহযোগী। যদিও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় এখনও কোনো তদন্ত করেনি কর্তৃপক্ষ। উত্তরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, তাদের কেউ জড়িত থাকলে, প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শুক্রবার উত্তরা ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার আগেই ফাঁস হয় প্রশ্ন। হাতে লেখা উত্তরপত্র চলে যায় কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছে। প্রশ্নফাঁসের তথ্যপ্রমাণ, হাতে আসে যমুনা নিউজের কাছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পরীক্ষার দিন ১২টার পর, রাজধানীর মতিঝিল এলাকার একটি রেস্তোরায় হাতে লেখা উত্তরপত্র নিয়ে অপেক্ষা করছিল তিনজন। পরে সেখানে একে একে আসতে থাকেন প্রশ্ন প্রত্যাশীরা। উত্তরগুলো শতভাগ নিশ্চিত দাবি করে, তা বিক্রি করা হয় ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায়। উত্তরপত্র বেচতে আসা ব্যক্তিরা নিজেদের উত্তরা ব্যাংকের প্রভাবশালী কর্মচারী বলে পরিচয় দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, তারা আহসান হাবীব নামে একজনের কাছে বারবার ফোনে নির্দেশনা চাচ্ছিলেন। এই আহসান হাবীবই প্রশ্নফাসেঁর মূল হোতা। ব্যাংকের কলাবাগান শাখায় পোস্টিং হলেও সিবিএ নেতা হওয়ায় প্রধান শাখাতে সময় কাটান তিনি। সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ২০১২ সালে। প্রধান শাখার প্রতিটি তলায় ঘুরেও পাওয়া যায়নি তাকে। সকালে ফোন খোলা থাকলেও যমুনা নিউজের পক্ষ থেকে এসএমএস পাঠানোর পর থেকে বন্ধ পাওয়া যায় নম্বরটি।
উত্তরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবিউল হোসেন জানান, তারা অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। কারও বিরুদ্ধে অন্যায় কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রশ্নফাঁস বিষয়ে জানতে পরীক্ষার তত্ত্বাবধানে থাকা বাংলাদেশ অর্থনীতি গবেষণা ব্যুরোকে চিঠি পাঠিয়েছে উত্তরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আবার সিবিএ-র ওই নেতা সম্পর্কেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানতে চেয়েছে অর্থনীতি গবেষণা ব্যুরো।
রোববার ব্যুরোর পরিচালকের কাছে গেলে তিনি দাবি করেন, এটা ডিজিটাল জালিয়াতি হতে পারে তবে প্রশ্নফাঁস নয়। ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে কোনো কথা বলতেও রাজি হননি তিনি।
যমুনা অনলাইন