মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৭

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তিনটি গাড়ি গায়েব !

স্টাফ রিপোর্টঃ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে তিনটি অকেজো গাড়ি গায়েব হয়েছে। গায়েব হওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে একটি ট্রাকও রয়েছে।  গাড়িগুলো নিখোঁজ হয়েছে উল্লেখ করে কোতোয়ালী থানায় ২৪ অক্টোবর সাধারণ ডায়েরি (নম্বর ১৯৪৯) করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিবহন শাখার উপ সহকারী প্রকৌশলী  জাবেরুল ইসলাম। সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয় গাড়ি তিনিটি ২৭ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয়েছে।
একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা থাকার পরও গাড়িগুলো গায়েব হওয়া নিয়ে করপোরেশনের ভেতরে নানা গুঞ্জন চললেও কেউই এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। মুখ না খুললেও এ বিষয়টি নিয়ে গোপনে সিটি করপোরেশনে তদন্তও চলছে ।

তবে সাধারণ ডায়েরিতে গায়েব হওয়া তিনটি অকেজো গাড়ির মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্রে জানা যায় সুরমাপাড়ার সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে দুইটি অকেজো গাড়ি ও একটি ট্রাক গায়েব করার নেপথ্যে রয়েছেন করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান। আর দায় এড়াতে রহস্যজনক কারণে নিখোঁজের কথা উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি করেন করপোরেশনের পরিবহন শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) জাবেরুল ইসলাম। হানিফুর রহমান এই গাড়িগুলো টেন্ডার ছাড়াই লোকচক্ষুর আড়ালে বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন করপোরেশনের টাকা। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার সুবাধে হানিফ করপোরেশনের বিভিন্ন দফতরও নিয়ন্ত্রণ করেন।
জাবেরুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশনের পরিবহন শাখা থেকে কোনও ধরনের অকেজো গাড়ি চুরি কিংবা নিখোঁজ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘যতটুকু মনে পড়ে কোতোয়ালী থানায় জিডি করেছিলাম হকার্স মার্কেট ভাঙার সময় আমাদের গাড়ির গ্লাসে ঢিল ছুড়ে মারার কারণে। এর বাইরে আর কোনও জিডি করিনি।’
সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয় গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয় পীর হাবিবুর রহমান পাঠাগারের দক্ষিণের পশ্চিম পাশের কর্নারে রাখা তিনটি অকেজো কনডেম গাড়ি যার নং (সিলেট ব- ৬১৪৮, সিলেট ব-৫৪১০) এবং ট্রাক নং (সিলেটঘ-০২ ০০৪৮) যথাস্থানে এসে দেখতে পান নাই।  জিডিতে উল্লেখ করা হয় আবেদনকারী মামলা দায়ের করবেন না। আপাতত তিনি জিডি করেছেন। এমনকি অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনও সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, করপোরেশনের অনেক পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে ফেলে রাখা ছিল। পরিষ্কার করার সময় গাড়ির কিছু যন্ত্রাংশ পরিচ্ছন্নকর্মীরা ডাম্পিংয়ে নিয়ে যায়।  বিষয়টি জানার পর আমি নির্দেশ দিলে কিছু যন্ত্রাংশ খুঁজে বের করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসকি কর্মকর্তা হানিফুর রহমান জানান, করপোরেশন থেকে কোনও গাড়ি নিখোঁজ হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।  তিনি বলেন, ‘যেসব অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে সেগুলো ঠিক নয়।’
রাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিবহন দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা ইউএসবিডি কোম্পানির (নিরাপত্তারক্ষী) শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘প্রায় ৮মাস থেকে পরিবহন দেখাশুনা করে আসছি।  আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এখান থেকে কোনও পরিবহনই গায়েব হয় নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘করপোরেশনের পরিবহনগুলো দেখাশুনা করে যাচ্ছি আমরা ৩/৪জন। প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছি। এখান থেকে কোনও গাড়ি নিখোঁজ কিংবা চুরি হওয়ার প্রশ্নই আসেনা।’ যদি এরকম কিছু ঘটত তাহলে তিনি জানতেন বলে জানান।