শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ‘চাপা পড়ছে’ বন্যাদুর্গতদের কথা

সিলেট আজকালঃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনেকটা যেন চাপা পড়ে যাচ্ছে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতির কথা। যে কারণে জানা হয়ে উঠছে না রোহিঙ্গাদের মতোই এখন বন্যাদুর্গতরা ছুটে বেড়াচ্ছে। কাজের সন্ধানে প্রতিনিয়ত রাজধানী ঢাকায় ছুটছে বন্যাদুর্গত অসংখ্য মানুষ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে স্থানীয়ভাবে কাজের সুযোগ তৈরি করা না গেলে ঢাকামুখী এই জনস্রোত ঠেকানো যাবে না।
রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় ১৮ জন রিকশাচালকের ওপর চালানো এক জরিপ থেকে এ চিত্র উঠে এসেছে।
জরিপে দেখা গেছে, ওই ১৮ রিকশাচালকের মধ্যে আটজনই পেশায় কৃষক। সাম্প্রতিক বন্যায় আমন ধান হারিয়ে তাঁরা এখন ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন।

এই রিকশাচালকরা জানান, বন্যায় তাঁদের আমন ধান শেষ হয়ে যাওয়ায় উপার্জনের তাগিদে তাঁরা এখন ঢাকামুখী। তাঁদের মতো বন্যাদুর্গত বহু লোক এখন রাজধানীতে ছুটছেন উপার্জনের আশায়। 
বন্যায় নষ্ট হওয়ার পর কৃষকরা যে আমন ধান নতুন করে লাগাবেন, সেই সুযোগও খুব একটা নেই। আবহাওয়াজনিত কারণে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর আমনের চারা লাগানোর উপযোগিতা কমে আসে। এই অবস্থায় পরবর্তী ফসল বোরো ধান যতদিন পর্যন্ত ঘরে না আসছে, ততদিন অপেক্ষা করতে হবে কৃষকদের। অর্থাৎ অপেক্ষা প্রায় এপ্রিল পর্যন্ত। মাঝের এই ছয় মাস কীভাবে চলবে সেই আশঙ্কায় ঢাকায় ছুটে আসছেন কৃষকরা।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) মনে করছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এমন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থাকা উচিত যেখানে দুর্যোগ হওয়া মাত্রই স্থানীয় পর্যায়ে নানামুখী উন্নয়নকাজ শুরু হয়ে যাবে, যার মধ্য দিয়ে দুর্যোগ আক্রান্ত মানুষ ঢাকায় না এসে নিজের এলাকাতেই কাজের সন্ধান পেয়ে যাবে।
বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, ছয় মাস বন্যাদুর্গত কোনো স্থানে ধান উৎপাদন হবে না। যাঁরা উন্নয়নের চিন্তা-ভাবনা করেন, তাঁদের এটাও মাথায় নিতে হবে।
আসাদুজ্জামান আরো বলেন, যেখানে দুর্যোগ হয়েছে, সেখানকার এমপিরা যদি তিন-চারজন একসঙ্গে বসে তাৎক্ষণিকভাবে লোকের উপকার হয় এমন কাজ করতে পারেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) এক গবেষণা বলছে, বস্তিবাসীর প্রায় ৭০ শতাংশই ঢাকায় এসেছে কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে। নগরবিদ নজরুল ইসলামের মতে, যেহেতু ঢাকায় আসার অন্যতম প্রধান কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সেহেতু দুর্যোগপ্রবণ জেলা-উপজেলাগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আলাদাভাবে নজর দিতে হবে।
নগর গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, জেলা শহর পর্যায়ে, উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ করে যেখানে কঠিন বন্যা হয়, ক্ষতিকর বন্যা হয়, সেই সব জায়গায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো দরকার। বিকেন্দ্রীকরণ তত্ত্ব আরো বেশি জোরদার করা দরকার।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একদিকে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ আক্রান্ত মানুষরা নিজের এলাকায় কর্মহীন হয়ে পড়ছে, নিজের এলাকায় কাজের সুযোগ না পেয়ে তারা ঢাকায় ছুটে আসছে। এই প্রবণতা চলতে থাকলে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা আরো এক কোটি বেড়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।