রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ইনসেপ্টার ৩০ লাখ টাকা ত্রাণের ২৭ লাখই আত্মসাৎ

আজকাল ডেস্কঃ কুড়িগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দেয়া ইনসেপ্টার ৩০ লাখ টাকা ত্রাণের সাড়ে ২৭ লাখ টাকাই আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ত্রাণের টাকা আত্মসাতের পর থেকে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের জেলা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সাবেক ইউপি সদস্য আত্মগোপন করেছেন। ভুক্তভোগী ৫১টি পরিবার অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, ত্রাণ সহায়তা হিসেবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুক্তাদির চৌধুরী কুড়িগ্রাম জেলার ভিটেমাটি হারা ৫১টি পরিবারকে দুই ক্যাটাগরিতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা দেন। সর্বশেষ শনিবার ঘরবাড়ি মেরামতসহ মাসের খাদ্য সহায়তা হিসেবে উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ১০টি দুস্থ পরিবারকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে দেন রংপুর অফিসে।

প্রতারক সিন্ডিকেট চক্রটি অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রত্যেককে ৪-৫ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করে। উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কুমার পাড়ার সৈয়দ আলীর স্ত্রী কাঞ্চনমালা (৩৮), ধনারবি দাসের স্ত্রী মালতি রবিদাস (৪০), নেছাব উদ্দিনের স্ত্রী আজিরন বেগম (৫২), মাহিলা বেগম (৪৫), কদমতলা গ্রামের ভগলু হোসেনের ছেলে আবুল হোসেন (৪৮), রাজেনের স্ত্রী স্বরবালা (৪৫), আবির উদ্দিনের স্ত্রী ছবিরন নেছা (৫০), অনন্তপুর ঘাটের কফুল্লা আলী (৭০), পালপাড়ার মোহনের স্ত্রী ছবিতা রাণী দাস (৫২) ও তাঁতীপাড়ার কানুর স্ত্রী বৃন্দেশ্বরী (৭০) প্রতারণার স্বীকার হন।
কাঞ্চনবালা জানান, ‘সাহেব আলী ও একজন অফিসার একদিন এসে হামার নাম-ঠিকানা লিখি নিয়া যায়। পরে শনিবার সকালে হামার এলাকার ১০ জনকে মাইক্রোত করি রংপুর নিয়া যায়। সেখানে টাকা নিয়া হামরা গাড়িত চড়ি। সবার খামত তিন হাজার করি টাকা আর নাস্তার জন্য এক হাজার টাকা দিয়া কয় বাকি টাকা মেলা খরচ হইছে। কিন্তু সাহেব আলীক কই এটে বলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আছে। বাকি টাকা কাই নিবে। তখন সাহেব আলী বলেন, এত প্রশ্ন করলে আর কারও সাহায্য আসলে তোমাক ডাক দিমো না।
ডেপুটি সেলস ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম জানান, আমাদের এমডি স্যার সাহায্য-সহযোগিতা করেন ঠিকই। তবে কাকে কত করে সাহায্য করেছেন তা বলা মুশকিল। তিনি যেভাবে দান করেন তাতে মোটা অংকের টাকাই থাকে। তবে কতজনকে কত টাকা বিতরণ করা হয়েছে এটা কুড়িগ্রামের এরিয়া ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম ও রংপুরের আজাদ সাহেব বলতে পারবেন। কেউ যদি টাকা আত্মসাৎ করে থাকেন তাহলে স্যারকে বলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের রংপুর ডিস্ট্রিবিউশনে কর্মরত আবুল কালাম আজাদ জানান, এমডি কবে এবং কতজনকে টাকা দিয়েছেন তা আমার জানা নেই। ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্বে থাকায় এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে পারব না। এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের এরিয়া ম্যানেজার মাইনুল সাহেব সব জানেন। কুড়িগ্রামের দায়িত্বে থাকা এরিয়া ম্যানেজার মাইনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি মোবাইলে জানান, অফিস থেকে তালিকা করে টাকা দিয়েছে। কারা তালিকা করেছে এবং কত টাকা দেয়া হয়েছে প্রশ্ন করলে তিনি ফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেন।
হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন বলেন, এ ঘটনা শোনার পর আমি সাহেব মেম্বারকে ফোন দিলে তিনি জানান, ৫০-৬০ হাজার টাকা নয়, ১০ হাজার টাকা ছিল প্রতি খামের মধ্যে। জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি টাকা যাতায়াত এবং অন্যান্য খরচ বাবদ কেটে নেয়া হয়।
ঢাকা মেট্রো-গ-১৪১১৮৮ নাম্বারের মাইক্রোবাসের ড্রাইভার আনোয়ারুল জানান, শনিবার সকালে সাহেব আলী আমার মাইক্রোটি রংপুর যাওয়া-আসার জন্য দু’হাজার টাকায় ভাড়ায় নেন। সন্ধ্যার দিকে ফেরার পথে সাত মাথার ওখানে এসে খাবারের জন্য আমাকে ১২০ টাকা দেয়। তখন আমি খেতে যাই। এ সময়ে গাড়িতে টাকা ভাগাভাগির ঘটনা ঘটলেও আমি বিস্তারিত কিছু জানি না।