বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৭

প্রিয় রাগীব আলী কি হারিয়ে যাবেন?

মোহাম্মদ সাইকুল ইসলাম নিউইয়র্ক থেকে: পৃথিবীর সব দেশেই ধনী মানুষ আছে। গরীবরা নানাভাবে তাঁদের সাহায্য সহযোগিতা ভোগ করে থাকলেও অন্তর থেকে তাঁদেরকে হিংসা করে। কিন্তু এতে ধনীদের কিছু যায় আসে না। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে ধনী লোকদের সরকারের পক্ষ থেকে কিছু এক্সট্রাঅর্ডিনারী সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় যাতে তাঁরা তাদের পুরো মেধা কাজে লাগানোর সুযোগ পায়। যে দেশে ধনীর সংখ্যা বেশী সে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও বেশী সমৃদ্ধ হয়। এজন্য উন্নত বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশে ব্যবসা বানিজ্য ও শিল্পোদ্যোক্তাদের ব্যাংক লোনসহ নানা সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় যাতে তাঁদের ব্যবসা বানিজ্যে অভাব অনটনের ছাপ না পড়ে। একজন মানুষ পলিসি করে একটা ইন্ডাস্ট্রি অপেন করতে গিয়ে যদি ১০ জন লোকের জায়গা জমি দখল করে ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারেন তাহলে ৯ হাজার ৯ শো ৯০ জন লোকের বেঁচে থাকার উপায় হয়। এক্ষেত্রে পুঁজিবাদী ধনী ১০ জন লোকের ক্ষতি করলেও অর্থনৈতিকভাবে ১০ হাজার জনের আর্থিক স্বচ্ছলতা বয়ে আনেন।



এজন্য উন্নত বিশ্বে শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রতি সরকারের আলাদা সুনজর থাকে। আমেরিকার শিল্পোদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক পরিধি বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে যদি সরকারি একটি অফিসও চেয়ে বসে তাতে সরকার সে অফিসটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। কারণ সরকার জানে সরকারি অফিসের জন্য শহরস্থ যে কোন অফিস বা বিল্ডিং ব্যবহার করা যেতে পারে কিন্তু ব্যবসায়ীদের ডেলিগেশনের জন্য শহরস্থ যে কোন স্থান যথোপযুক্ত নাও হতে পারে। এজন্য আমেরিকার প্রতিটি শহরের মূল কেন্দ্রবিন্দুগুলো বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্ধ থাকে।


বিদেশীরা কোন শহরে নেমে প্রথমে যেন এই দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চোখ ফেলে এবং কেনাকাটায় উৎসাহী হয় এটাই এই দেশের পলিসি। আর এই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে টেক্স আদায় করে তা থেকে বড় অংকের অর্থ আয় করে সরকার আর্থিক স্বচ্ছলতা লাভ করে এবং তা দিয়ে দেশ ও জনগনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালিত করে। এখন প্রশ্ন হল বাংলাদেশ সরকারের সরকারী নীতি কি? রাগীব আলী আজ কোথায় আছেন, কি করছেন, জানি না। তিনি বাংলাদেশে বড় একজন শিল্পপতি হিসেবে বহির্বিশ্বে প্রসিদ্ধ ছিলেন।

তাঁর গড়া জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ, লিডিং ইউনিভার্সিটি ও নাম না জানা অসংখ্য টি এস্টেট ও শিল্পকারখানার কি হবে এখন? কত অসহায় মানুষ যে রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ থেকে বিনে পয়সায় চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তার কি কোন হিসেব আছে? এই অসহায় মানুষগুলো চিকিৎসার জন্য এখন কোথায় যাবেন? বিভিন্ন নিউজ মাধ্যমে জেনেছি রাগীব আলীর উপর বিভিন্ন গোষ্টীর নানা খড়্গ নেমে এসেছে। এই খড়্গের গ্লানিতে আজ তিনি কারাগারে। মনে প্রশ্ন জাগে যে মানুষটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দাতব্য চিকিৎসালয় ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে মুক্তহস্তে কোটি কোটি টাকা দান করেছেন তিনি আজ কেন কারাগারে? তাঁর প্রতি কি দেশের বিচার ও শাসন ব্যবস্থার কোন অবহেলা আছে? যাকে ফুল দিয়ে দেশবাসীর বরণ করার কথা সে মানুষটি জেলে আছেন জেনে দূরদেশে নিজের মাথাটা হেট হয়ে যাচ্ছে। আমরা অভ্যন্তরীন হিংসাহিংসি ও জেদাজেদিতে ওস্তাদ বলেই স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর আজও আমরা অনুন্নত ও গরীব। যতদিন পর্যন্ত দেশের শিল্পমনা সুধীজনদের আমরা সঠিক ও উপযুক্ত সম্মান দিতে না পারব ততদিন আমরা গরীবই রয়ে যাব।



যাঁরা মেধাবী, সুখী ও স্বচ্ছল তাঁদেরকে অমেধাবী, অসুখী ও অস্বচ্ছল রাখাটাই আমাদের প্রধান কর্মকান্ড বলেই আমরা বিশ্বে নিন্দীত জাতি হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে যারা ভাল করবে সরকারের নিকট বশ্যতা স্বীকার না করলে তারাই জেলে যাবে। এটাই আমাদের নিয়মনীতি হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক হিংসাহিংসিতে পড়ে কত নিরীহ, সৎ ও মেধাবী মানুষের জীবন যে ধ্বংস হচ্ছে তা বলার নয়। আমাদের মত গরীব দেশে মেধাবী শিল্পোদ্যোক্তাদের কিছু করার সুযোগ না দিলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রবল ক্ষতির সম্মুখীন হবে। রাগীব আলীর মত ধনী শিল্পোদ্যোক্তাকে এখনই জেল থেকে মুক্তি দিয়ে তাঁকে তাঁর সঠিক সম্মান ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।