সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৭

সরকার মানুষের ত্রাণ লুটপাটে ব্যস্ত: সিলেটে মির্জা আব্বাস

স্টাফ রিপোর্টঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের ত্রাণ লুটপাটে ব্যস্ত। বন্যায় দেশের অর্ধেক ডুবে গেছে, অনেকের বাড়িঘর ও গবাদিপশু বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এটা দেখে আমাদের কষ্ট হচ্ছে, অথচ আরেকটি দলের কষ্ট হয় না। বন্যা হওয়ায় তারা আনন্দিত। কোটি কোটি টাকার ত্রাণ আসছে কিন্তু দুর্গত মানুষের হাতে সেই ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ দলের নেতাকর্মীরা সব লুটেপুটে খেয়ে ফেলছেন। যারা ত্রাণ চুরি করেন, তাদের পাহারা দিয়ে রাখতে হবে।’
রবিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে মৌলভীবাজার জুড়ী উপজেলায় বিএনপির আয়োজনে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।


অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৪০০ বন্যাদুর্গত মানুষের হাতে ত্রাণের প্যাকেট তুলে দেন মির্জা আব্বাস। দলের নেতাকর্মীদের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা আসেননি—এ কথা যাতে কেউ বলতে না পারেন। সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষকে সহযোগিতা করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহসভাপতি নাসির উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ অনেকে।
এর আগে কুলাউড়ায় মির্জা আব্বাসের পথরোধ, পুলিশের লাঠিপেটা ও কুলাউড়া উপজেলা সদরে কোন্দলের কারণে স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ মির্জা আব্বাসের পথরোধ করে। জেলা কমিটির সহসভাপতি আবেদ রাজার অনুসারীরা বিছরাকান্দি এলাকা ও মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীনের অনুসারীরা রবিবার দেড়টায় উত্তর কুলাউড়া এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে পৃথকভাবে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। বিকেল ৩টার দিকে মির্জা আব্বাসের গাড়িবহর উত্তর কুলাউড়ায় পৌঁছায়। এ সময় শাহীনের অনুসারীরা তার পক্ষে স্লোগান দিয়ে মির্জা আব্বাসের পথরোধ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়। পরে মির্জা আব্বাস বিছরাকান্দি এলাকায় অপর পক্ষের অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে নেমে দু-তিনজন বন্যার্ত লোকের হাতে ত্রাণের প্যাকেট তুলে দিয়ে দ্রুত জুড়ীর দিকে রওনা দেন। জুড়ী থেকে ফিরে বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নে আয়োজিত আরেকটি ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
কুলাউড়া থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, ‘ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানের জন্য বিএনপির আবেদ রাজার অনুসারীরা আগে অনুমতি নিয়েছিলেন। অপর পক্ষ অনুমতি নেয়নি। মির্জা আব্বাস পৌঁছানোর পর ওই পক্ষের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত সড়কে জটলা সৃষ্টি করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’