সোমবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৭

মালয়েশিয়া সহ সকল প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে: সিডনীতে প্রবাসী কল্যান মন্ত্রী

আজকাল ডেস্কঃ মালয়েশিয়াতে সম্প্রতি জংগী দমন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সন্দেহজনকভাবে আটক সকল বৈধ- অবৈধ বাংলাদেশীদের আইনী সহায়তা সহ সব ধরনের সহযোগীতা দেয়া হচ্ছে, এমনটি জানিয়েছেন বৈদেশিক কর্ম সংস্থান ও প্রবাসী কল্যান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ।
রোববার , সিডনীতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমন তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় সকল বাংলাদেশী শ্রমিকদের  ধরপাকড় সহ সবধরনের অনাকাংখিত পরিস্থিতি মোকাবিলায়  তাঁর মন্ত্রনালয় সময়োপযোগী ব্যবস্থা নিচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় ওয়েজ অনার্স কল্যান বোডের সদস্যপদ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় একটি হোটেলে মতবিনিময় সভায় প্রবাসীদের কল্যানে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।
বাংলাদেশ কমিউনিটির  বিভিন্ন্ পেশাজীবিদের সাথে মত বিনিময়ের পাশাপাশি নিজ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি ।চলমান  জঙ্গী দমনের প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়াতে  বৈধ – অবৈধ  শ্রমিকসহ  সব ধরনের অভিবাসী বাংলাদেশীদের  দুর্দশা আর হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ” বিষয়টি আমার নলেজে আছে । সমস্যা সমাধানে মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি ” ।
সৌদি্আরব সরকারের নেয়া নতুন পদক্ষেপের ফলে ২০২০ সালের মধ্যে  শ্রমিকসহ নানা পেশার বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীদের  দেশে ফিরতে হবে এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর মন্ত্রনালয় বা সরকারের প্রস্ততি জানতে চাইলে বিস্তারিত কোন তথ্য না দিয়ে মন্ত্রী বলেন,”  আমরা এ বিষয়টা নিয়ে কাজ করছি ।” মতবিনিময় সভায়, অবসরপ্রাপ্ত  বাংলাদেশী অস্ট্রেলিয়ানরা, বাংলাদেশে থেকে  অস্ট্রেলিয়ান সরকারের দেযা পেনশনের সুবিধা ভোগ করতে পারেন না কেন এমন প্রশ্ন করা হয় কমিউনিটির পক্ষ থেকে ।
বিষয়টি নিজ মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্ট নয় তাই  উত্তর দিলেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার কাজী ইমতিয়াজ হোসেন। তিনি বলেন, “এধরনের সুবিধা পেতে হলে দুদেশের মধ্যে চুক্তি থাকতে হয় । যেসব দেশের সাথে চুক্তি আছে অস্ট্রেলিয়ান  সরকার শুধু সেসব দেশের দ্বৈত নাগরিকদের এমন সুবিধা দিয়ে থাকেন ।”  তারপরও আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রদুত ইমতিয়াজ জানালেন, বাংলাদেশী অস্ট্রেলিয়ানদের এমন দাবী  নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে । এসময় কাজ ছুটি ভিসায় ( Working holiday visa) অস্ট্রেলিয়াতে আসতে আগ্রহী বাংলাদেশীদের দেরীতে ভিসা দেয়া বা ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে অপর এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে হাইকমিশনার ইমতিয়াজ হোসেন জানান , ” এ ভিসায় এসে বেশীরভাগ বাংলাদেশী রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছে। অস্ট্রেলিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে  তাঁর দুতাবাসকে বিষয়টি  খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ”
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে লিখিত বক্তব্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে সরকার সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের সিআইপি (বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) মর্যাদায় সম্মানিত করছেন বলে জানান ।
তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় অনেক সময় সরকারের নেয়া কল্যাণমূখী সেবার আওতায় তাঁদের আনা সম্ভব হয় না। সকল প্রবাসীর তথ্য ডাটা বেইজ অন্তর্ভুক্তি করতে পারলে সেবার পরিধি বাড়বে এবং প্রবাসীরা সরকারের সকল কল্যাণমূখী সেবা ও সুবিধাদি পাবেন বলে জানান মন্ত্রী ।মন্ত্রী সবাইকে ওয়েজ অনার্স কল্যান বোডের সদস্য হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডাটা বেইজে অন্তর্ভুক্তি হলে প্রবাসী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, দেশে মৃতদেহ পাঠানো ও বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের দেশে ফিরতে সাহায্য করাসহ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে সহজশর্তে ঋণ দেয়া হবে । আর সে কারনে তাঁর মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে ওয়েজ অনার্স কল্যান বোডের সদস্যপদ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে ।মন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার ইন্স্যুরেন্স প্রদানের বিষয়ে সরকার কাজ করছে। গুলশানের ভাটারায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিজস্ব জমিতে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কল্যাণমূলক নানা ধরণের প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে, যেখানে প্রবাসীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ নিহত সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এসময় তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী সিডনীতে বাস করেন। সে বিবেচনায় আয়োজনটি খুবই উপযোগী ও ফলপ্রসু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মত বিনিময় সভায় অংশ নেয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা।
অনুষ্ঠান শেষে কমিউনিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় ।