শুক্রবার, ১১ আগস্ট, ২০১৭

চুনারুঘাটে অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তা ভঙ্গুর ॥ ৫ ব্রীজ ঝুঁকিপূর্ণ

স্টাফ রিপোর্ট॥ চুনারুঘাট উপজেলায় গ্রামীণ রাস্তার অধিকাংশই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেই সাথে ভারী যানবাহনের চাপে ৩টি ব্রীজ ধ্বসে পড়েছে এবং আরো ৫টি ব্রীজ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কোন কোন রাস্তা স্থানীয় জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করে কোন রকমে চলাচল করছেন। এহেন অবস্থায় উপজেলার ৩ লাখ মানুষ গ্রামীণ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মরার উপর খারার ঘা’র মতো এসে দাড়িয়েছে বর্ষার অতিমাত্রার বৃষ্টি ও বন্যা। বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সড়কের পিচ উঠে কাদা মাটিতে একাকার হয়ে গেছে এসব রাস্তা। গ্রামীণ সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল নিষেধ হলেও তা মানছে না কেউ। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৭৯৫ কিলোমিটার কাঁচা ও পাকা আন্তঃসড়ক রয়েছে। 

এসব সড়কের মধ্যে গত ২০ বছরে মাত্র ২শ’২ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করণ করা হয়েছে। দেশ স্বাধীনের পর পরই গ্রামীণ রাস্তা মেরামত কাজ শুরু হলেও ১৯৯৬ সালে প্রথম উপজেলায় আন্তঃরাস্তা পাকা করণে কাজ শুরু হয়। গত বিশ বছরে ২০২ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা হয়। যা হালকা যানবাহন চলাচলের উপযোগী। এসব সড়কে গ্রামাঞ্চলের মানুষ চলাচল ও তাদের প্রয়োজনীয় ইট বালু ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য্য মালামাল পরিবহনের কথা থাকলেও এখন ব্যবহার হচ্ছে বালু ও মাটি পরিবহনে ভারী যানবাহন। প্রতিদিন উপজেলার কাচা ও পাকা ২’শ ৮২টি সড়কের মাঝে অধিকাংশ সড়কের উপর দিয়েই মাটি বালু ও ধানবোঝাই ভারী যানবাহন চলছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভয়ংকর ভাঙ্গাচুড়া চিত্র। উপজেলার চুনারুঘাট থেকে আসামপাড়া বাজার হয়ে বাল্লা স্থল বন্দর পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা কিছুটা খারাপ। অথচ এ সড়কটি কিছুদিন আগে মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু বালু এবং বাল্লা বন্দরে চলাচলকারী ভারী যানবাহনের কারণে সড়কটিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে ভেঙ্গে চুরমার হচ্ছে। উপজেলার চুনারুঘাট-গাজীগঞ্জ-রাণীগাও, চুনারুঘাট-মিরাশী-কালেঙ্গা, চুনারুঘাট-আইতন-কালেঙ্গা, চুনারুঘাট-নালমুখ-রেমা, চুনারুঘাট- নালমুখ-বাসুল্লা, চুনারুঘাট-শাকির মোহাম্মদ, চুনারুঘাট-শাকির মোহাম্মদ-লালচান্দ, শায়েস্তাগঞ্জ-বদরগাজী-দেউন্দি, চুনারুঘাট-বালিয়ারী-বড়কোটা, চুনারুঘাট-সতং-দেউন্দি, শ্রীকুটা-মুড়ারবন্দ-কাজিরখিল, চুনারুঘাট- রাণীগাও-পারকুল, চুনারুঘাট-বরজুষ-কালেঙ্গা, চুনারুঘাট-বালিয়ারী-চানভাঙ্গা বাজার, চুনারুঘাট- শানখলা-মহিমাউড়া, চুনারুঘাট-শানখলা-দেউন্দি, চুনারুঘাট-দেউন্দি-লালচান্দ চা বাগান, চুনারুঘাট-শাকির মোহাম্মদ-পঞ্চাশ, আসামপাড়া- টেকারঘাট-দুধপাতিল, জারুলিয়া-উসমানপুর সড়ক, রাইসমিল থেকে দক্ষিণ নরপতি, শ্রীকুটা বাজার-কেউন্দা, চুনারুঘাট-সাটিয়াজুরী- সুন্দরপুরসহ অসংখ্য সড়ক এখন ভাঙ্গাচুড়া। গত ৫-৭ বছরের মধ্যেই এসব সড়ক ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেছে। কোন কোনটি মাত্র দুই বছরেই ভেঙ্গে বড় বড় গর্ত তৈরী হয়েছে। এসব সড়কে দিনরাত বৈধ-অবৈধ বালু ও মাটি পরিবহন এবং ধান চাউল পরিবহনের কারণে হয়েছে। খানা খন্দে এসব সড়কে এখন শুধু যানবাহনই নয়, মানুষ কিংবা অটোরিক্সা ও সিএনজি চলাচল করতে পারছে না। এদিকে চলতি মওসুমে বর্ষায় অতিমাত্রার বৃষ্টির কারণে এবং উজানের ঢলে দুই দফা বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ভেঙ্গে গেছে। এসব রাস্তা অধিকাংশই এখন যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। মানুষজন এসব রাস্তায় চলাচল করতে না পেরে জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কাছে দ্রুত মেরামতের দাবি করছেন। এছাড়া গাজীপুর ইউনিয়নের বরজুম এলাকায় একটি রাস্তা স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে মেরামত করে কোনরকম চলাচল করছেন। উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, প্রতি বছরই নতুন নতুন রাস্তা পাকাকরণ করা হচ্ছে। কিন্তু বালু ও মাটি বোঝাই ভারী যানবাহন পরিবহনের কারণে তা ঠেকানো যাচ্ছেনা। খোয়াই, করাঙ্গী, সুতাংসহ বিভিন্ন নদী ও ছড়া থেকে প্রতিদিন বালি ও মাটি উত্তোলন করে গ্রামীণ এসব সড়ক দিয়ে পরিবহন করায় সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। প্রতি বছর মোট রাস্তা নির্মাণের মাত্র শতকরা ২০ ভাগ মেরামত কাজের বরাদ্ধ আসে। তাই পুরাতন সড়ক প্রতিবছর ৩ থেকে ৪ কিলোমিটারের বেশি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।