বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৭

জগন্নাথপুরে সমাজচ্যুত দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ধর্মঘট ও প্রতিবাদ

আজহার আহমেদ: জগন্নাথপুরে সমাজচ্যুত দুই ব্যবসায়ী দোকানঘর খোলায় গ্রামবাসী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে ঘন্টাব্যাপি ধর্মঘট ও প্রতিবাদ কর্মসুচী পালন করা হয়েছে । বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কেশবপুর গ্রাম ও আশপাশের এলাকা।

এলাকাবাসী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, জগন্নাথপুর পৌরশহরের কেশবপুর গ্রামের আছকির আলী গংরা বাজারে চাঁদাবাজি,মদ গাজা,সুদের ব্যবসা  সহ অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় এলাকার যুবক ও মুরুব্বিয়ান দের সাথে প্রায় দুই মাস ধরে বিরোধ চলছে ।

কেশপুরের সচেতন যুবসমাজ,মুরুব্বিয়ান ও বাজারের ব্যবসায়ীর সম্মিলিত উদ্যোগে আছকির আলী গংদেরকে  মাসখানেক আগে অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সমাজচ্যুত ঘোষনা করেন । এ নিয়ে কেশবপুর এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করে আসছে ।


বুধবার সকালে সন্ত্রাসী আছকির আলীর পক্ষের তোতা মিয়া ও জাহাঙ্গীর মিয়া এ দুই ব্যবসায়ী স্থানীয় কেশবপুর বাজারে তাদের বন্ধকৃত দোকানঘর খোলেন। এতে গ্রামবাসীবাসী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে সব বাজারের দোকানপাট বন্ধ করে ধর্মঘট কর্মসুচী পালন করেন।

পরে বিকাল ৩টার দিকে কেশবপুর বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গ্রামের প্রবীন মুরব্বী চানঁ মিয়ার সভাপতিত্বে ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজিবুর রহমানের পরিচালনায় এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আছকির আলী,  গ্রামের প্রবীন মুরব্বী আহাদ উল্লাহ, আলিফ উদ্দিন,  বাদশা মিয়া,সাজুর মিয়া, বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক আরজাদ খান, যুব সমাজের পক্ষে আফরোজ আলী,  আবু হেনা, আনোয়ার হোসেন আনু, আলাল হোসেন, লেবু মিয়া প্রমুখ।

কেশবপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক আরজাদ খাঁন এক বিবৃতে বলেন, বাজারে চাঁদাবাজি ও অসামাজিক কাজে জড়িত থাকায় গ্রামবাসী ও বাজার তদারক কমিটি  তাদেরকে সমাজচ্যুত করেছেন। তাই তারা বাজারে দোকানঘর খোলায় গ্রামবাসী ও বাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজিবুর রহমান বলেন, শান্তিপ্রিয় কেশবপুর গ্রামে আছকির আলীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী মদ, গাজা, জুয়া, চাদাবাজিসহ অসামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে প্রচেষ্টা চালায়। গ্রামবাসীকে এ সব অপকর্ম বন্ধের দাবিতে সর্বদা সোচ্চার। ইতিমধ্যে সামাজিকভাবে তাদেরকে গ্রামবাসী প্রত্যাখান করেছেন। এ সব অপকর্ম বন্ধ না হলে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ঘরে তোলা হবে।

এব্যাপার কেশবপুর গ্রামের আছকির আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে আমাদের প্রতিনিধি  কে জানান, গ্রামের একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে পূর্ব বিরোধ চলছিল। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নির্দেশে বন্ধকৃত দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্টান খোলতে গেল প্রতিপক্ষের হামলার শিকারের আশংকায় আমাদের দুইজন ব্যবসায়ী বাজার থেকে চলে এসেছেন।

জগন্নাথপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ আমাদের প্রতিনিধি কে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত। বিষয়টি সামাজিকভাবে নিস্পত্তির প্রচেষ্টা চলছে।