বুধবার, ১৯ জুলাই, ২০১৭

ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে ফিরতে হবে অবৈধ বাংলাদেশীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে থাকা বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার চাপ বাড়ছে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ইইউ যৌথ কমিশনের বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে। বৈঠকে চলতি মাসের মধ্যেই অভিবাসী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর  চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশকে সময় বেঁধে দিয়েছে ইইউ। এছাড়া ২০১৬ সালের এসওপি নিয়ে অগ্রগতি কম হওয়ায় এ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছে তারা। গতকাল ইইউ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ব্রাসেলসে ইইউ সদর দপ্তরে গত বুধবার বাংলাদেশ ও ইইউ যৌথ কমিশনের অষ্টম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে সই করা ‘কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট অন পার্টনারশিপ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ চুক্তির আওতায় প্রতি বছর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইইউর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে অভিবাসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসীদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে একটি সংশোধিত খসড়া এসওপি বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বৈঠকে উপস্থাপন করে। অবৈধ অভিবাসীদের ফিরিয়ে আনতে ২০১৬ সালের জুনে এসওপিটি ঢাকাকে দিয়েছিল ইইউ। এর অগ্রগতি এতই সামান্য যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলোচনা করে এসওপিটি নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। চলতি জুলাইয়ের মধ্যে এসওপি-সংক্রান্ত দরকষাকষি শেষ করতে ইইউ বাংলাদেশকে চাপ প্রয়োগ করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ইস্যুতে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যৌথ কমিশনের বৈঠকে সাসটেইনেবল কম্প্যাক্টসহ শ্রম অধিকার, বিশেষ করে শ্রমিক ইউনিয়ন অধিকার নিয়ে যৌথ প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি করেছে ইইউ। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সাম্প্রতিক সুপারিশ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। আইএলও’কে দেয়া বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি নির্ধারিত ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে বলেছে ইইউ। এছাড়া বাংলাদেশ-ইইউ বিজনেস ক্লাইমেট ডায়ালগের অগ্রগতিও জরুরি বলে জানিয়েছে ইইউ।
বাংলাদেশ ও ইইউ ২০১৮-২০২০ সালের উন্নয়ন সহযোগিতা এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জনগণের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। এগুলো বাস্তবায়নে দুপক্ষই নিয়মিত খাতভিত্তিক নীতি আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে জনগণের অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়টিতে বিশেষ জোর দিয়েছে ইইউ। এছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যৌথভাবে কাজ করতে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ। যৌথ কমিশনের আগামী বৈঠক ২০১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলেও একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও ইইউ।