বুধবার, ৫ জুলাই, ২০১৭

বাংলাদেশ সরকার কি মালয়েশিয়ার কারাগারে বন্দী প্রবাসী বাঙালিদের সাহায্য করবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মালয়েশিয়ায় কারাগারে বন্দী বাংলাদেশিদের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। প্রায়ই বাংলাদেশিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়। কারাগারে বিভিন্ন দেশের বন্দীরা থাকলেও বাংলাদেশিরা বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এমনকি নির্যাতনের কারণে কেউ কেউ মারা যান।

বন্দীরা দীর্ঘদিন জেলে বা ক্যাম্পে থাকলেও অর্থ-সংকটের কারণে দেশেও ফিরতে পারছেন না, অনেকে চালাতে পারছেন না আইনি লড়াইও। এসব বন্দীকে মুক্ত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস তৎপর নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রবাসীরা বলছেন, বিদেশি কারাগারে বিপুল সংখ্যক নাগরিকের বন্দী থাকা দেশের জন্য সম্মানজনক নয়। জীবিকার তাগিদে অবৈধ অভিবাসী হলে সে দায় শুধু ব্যক্তির নয়; রাষ্ট্রেরও। সরকার প্রধান বারবার বলে আসছেন প্রবাসীদের কারণেই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল। প্রবাসীরা দেশের সোনার ছেলে। কিন্তু প্রবাসীদের কল্যাণে আশানুরুপ সেবা দিতে দূতাবাস ব্যর্থ।


তাদের ব্যর্থতার কারণেই বছরের পর বছর বিদেশের কারাগারে প্রবাসীরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য বিভাগের প্রতিদিনের চিরুনি অভিযানে এখন পর্যন্ত কতজন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে ইমিগ্রেশন বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, সিমুনিয়া, লেঙ্গিং, লাঙ্গ, জুরুত, তানাহ মেরায়, মাচাপ উম্বু, পেকা নানাস, আজিল, কেএলআইএ সেপাং ডিপো, ব্লান্তিক, বুকিত জলিল ও পুত্রজায়ায় সাম্প্রতিক অভিযানে আটককৃত বাংলাদেশির সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-সহকারী পরিচালক জোসামি মাস্তান বলেন, বিভিন্ন কারাগার ও ক্যাম্পে যারা আটক আছেন, তাদের বেশির ভাগই অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ কিংবা অবৈধভাবে থাকার কারণে গ্রেফতার হয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন, ১৯৫৯-এর ধারা ৬(১) সি/১৫ (১) সি এবং পাসপোর্ট আইন, ১৯৬৬-এর ১২(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে অহরহ প্রাণহানি ঘটছে, কেউ ধরা পড়ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে, প্রতারকদের হাতে জিম্মি হচ্ছেন অনেকেই। সহায় সম্বল বেঁচে টাকা দেয়ার পর মুক্তি মিলছে কারো।