বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০১৭

বহুল আলোচিত চার শিশু হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড

আজকাল ডেস্কঃ  হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের বহুল আলোচিত চার শিশু হত্যা মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া দুইজনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এ মামলায় তিনজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টায়  সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মকবুল আহসান এ রায় ঘোষণা করেন।ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সুন্দ্রাটিকি গ্রামের হাবিবুর রহমান আরজু (৪০), উস্তার মিয়া (৪৮) ও রুবেল মিয়া (২০)। এদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে উস্তার মিয়া পলাতক রয়েছেন। বাকি দু’জন রায় ঘোষাণার সময় এজলাসের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।এছাড়া ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে সায়েদ (৩২) ও জুয়েল মিয়াকে। তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়ছে। বেকসুর খালাস প্রাপ্তরা হলেন, পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল আলী বাগাল (৬০), বাবুল মিয়া (৪৫) ও বিল্লাল মিয়া (৩৫)।সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট অশোক কুমার কর বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এই রায়ের বিপক্ষে উচ্চ আদলতে আপিল করা হবে।প্রসঙ্গত, বাহুবলের সুন্দ্রাটিকি গ্রামে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ঐ গ্রামের আবদাল মিয়ার ছেলে মনির মিয়া (৭), ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)। এর ৫ দিনের মাথায় ১৭ ফেব্রুয়ারি সুন্দ্রাটিকি গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি বালুর ছড়ার মাটির নিচ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মনির সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে, তার দুই চাচাত ভাই শুভ ও তাজেল একই স্কুলে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। আর তাদের প্রতিবেশী ইসমাইল পড়তো সুন্দ্রাটিকি মাদরাসাতে।
নিখোঁজের পর মনিরের বাবা আবদাল মিয়া একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে মরদেহ উদ্ধারের পর আবদাল মিয়া অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে বাহুবল থানায় এই চারজনসহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আবদাল মিয়া।