রবিবার, ২ জুলাই, ২০১৭

বন্যার কারণে ছয় উপজেলায় ১৭৪ টি স্কুল বন্ধ

স্টাফ রিপোর্ট:টানা বৃষ্টি আর উজানে পাহাড়ি ঢলে সিলেটের ছয় উপজেলায় বন্যা কারণে জেলায় ১৭৪ টি স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও ফুলে ফেঁপে উঠা সুরমা-কুশিয়ারির পানিতে তলিয়ে গেছে তিন হাজার হেক্টর আউশ ধান। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত দুই লাখ মানুষ।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, কুশিয়ার নদী বিপৎসীমার ১৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইচ্ছে। তবে বর্তমানে পানি বাড়ছেও না, কমছেও না।

এপ্রিলে অতিবৃষ্টি আর বন্যায় হাওরে ফসলহানির পর আবার নতুন দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকার মানুষ। আর প্রশাসন তাদেরকে দ্রুত সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আজ রবিবার জেলা প্রশাসনের এক বৈঠক হয়েছে। সেখানে জানানো হয়, বন্যার কারণে জেলার ছয় উপজেলায় ১৬১ টি প্রাথমিক ও ১৩ টি ‍মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যে টানা বৃষ্টির কারণে বরাক নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় বরাকের শাখা নসুরমা ও কুশিয়ারায় নদী বেড়ে গেছে। নদীর পানি তীর উপচে ঢুকেছে লোকালয়ে। ফলে নদীর অববাহিকায় গ্রামগুলো তলিয়ে গেছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম। ডুবেছে হাজার-হাজার ঘরবাড়ি, দোকান পাট। বাড়ি-ঘর ডুবে যাওয়ায় অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে।

কুশিয়ারার তীরে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরে পানি উঠায় শতাধিক দোকানপাঠে পানি উঠেছে। সড়কে নৌকা দিয়ে চলাচল করছে মানুষ।

দুর্গত এলাকায় ১২৮ মেট্রিকটন চাল ও দুই লাখ ৭৮ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে আরও ত্রাণ ও সাহায্য দেয়া হবে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম চৌধুরী।
রবিবার আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে , সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আর সে ক্ষেত্রে বৃষ্টি হলে পানি বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে অধিদপ্তর।