শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০১৭

মৌলভীবাজারে পানিবন্ধি প্রায় দেড় শতাধিক স্কুল বন্ধ

আজকাল ডেস্ক: মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ১৪৭টি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য খুলে দেওয়া স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এদিকে হাকালুকি ও কাউয়াদীঘি হাওর অঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে বিষধর সাপ আতংক কাজ করছে বলেও জানান স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম জানান, প্রথমে ১৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছিল। ৪০টি স্কুলের পানি কমায় সেগুলোতে পাঠদান শুরু হয়েছে। বর্তমানে ১২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি থাকায় সেগুলো বন্ধ আছে। এছাড়াও ৮টি স্কুলে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হালচাল প্রসঙ্গে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, মাদ্রাসাসহ মোট ২৭টি মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে আপাতত পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বন্যার প্রথমদিকে ৪৮টি বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, পানি নামার পরপরই যেন অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হয়, সে নির্দেশনা দেওয়া আছে। বন্যার পানি না কমা পর্যন্ত এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।এদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। স্রোত এখন বিপদসীমার তিন সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)র নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দ্র বিজয় শংকর চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানির গতি খুব ধীর।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার জেলার সাতটি উপজেলা ও দুইটি পৌরসভার ৩৫০টি গ্রামের প্রায় তিন লাখ ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। ৩৫টি ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৫৫ হাজার ২৬৭টি, ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ পাঁচ হাজার ৬৪৩ হেক্টর, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ৫২৫টি ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ছয় হাজার ১০৮টি। এছাড়াও ২৫০ টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দেখা দেওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকায় সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে গেছে। বিষধর সাপের ভয়ে অনেকে রাতে ঘুমাতে পারছেন না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে ২৬ জুন থেকে জেলার পাঁচটি উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এর আগে কখনো এত দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হয়নি। এলাকার ঝোপ-জঙ্গল তলিয়ে যাওয়ায় সাপের নিরাপদ আবাস নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য লোকালয়ে চলে আসছে নানা প্রজাতির সাপ।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিদায়াতুল্লাহ বলেন, ঘরে কার্বলিক অ্যাসিড ছিটিয়ে রাখলে সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে তাদের কাছে এই মুহূর্তে কার্বলিক অ্যাসিড মজুদ নেই বলেও জানান তিনি।
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. মো.নরুল হক জানান, সাপের কারণে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে জরুরি চিকিৎসার জন্য উপজেলার হাসপাতাল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। তবে জনগনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে কুলাউড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বী বলেন, ধীরগতিতে হলেও পানি কমা শুরু হয়েছে। এখন পানি কমছে। সংকট মোকাবেলায় দুই দিনে কুলাউড়া উপজেলায় ২৭৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চাল, ডাল, মোমবাতিসহ বিভিন্ন পণ্যের ৫০০টি প্যাকেট বিভিন্ন ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।