বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন, ২০১৭

লন্ডন অগ্নিকান্ডঃ নিখোজ মৌলভীবাজারের ১ পরিবার

আজকাল ডেস্ক: পশ্চিম লন্ডনের কেসিংটনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে অন্তত ১টি বাংলাদেশী পরিবার নিখোজ রয়েছেন। নিখোজ পরিবারটির বাড়ি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার একাটুনা গ্রামে। অগ্নিকাণ্ডস্থল গ্রিনফেল টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে কমরু মিয়া, তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। এ ভবনের নিচে একটি বাংলাদেশী টেইকওয়ের মালিক শিপার জানান, এই ভবনে অন্তত ৪টি বাংলাদেশী পরিবার রয়েছে। তবে ৩টি পরিবার অক্ষত রয়েছে। তিনিও নিশ্চিত করেন, একটি পরিবার নিখোজ রয়েছে বলে।এদিকে নিখোজ পরিবারের মেয়ে হাসনা বেগম তনিমা নর্থ ইষ্ট লন্ডনের টোটেনহ্যাম হেইল বিজনেস পার্কে পিসিওয়ার্ল্ডে কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন হাসনার সহকর্মী সাংবাদিক শাহ রাসেল। তবে সর্বশেষ হাসনা সেন্ট্রাল লন্ডন সুপার ড্রাগে কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক অসীম চক্রবর্তী ।

পশ্চিম লন্ডনে ১৯৭৪ সালে নির্মিত ২৭ তলা এই ভবনে দেড় শতাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। ১৪২ নম্বর ফ্ল্যাটে কমরু পরিবার থাকেন বলে তার স্বজনরা জানান।
মঙ্গলবার রাতে ওই ভবনটিতে আগুন লাগে; তা নেভাতে বুধবার দুপুর গড়িয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহত অবস্থায় ৭৪ জনকে উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে।
কমরু মিয়ার ভাতিজা যুক্তরাজ্যেরই চেলসির বাসিন্দা আবদুর রহিম বুধবার  বলেন, আগুন লাগার পর রাতে তার চাচাত ভাইয়ের সঙ্গে তার টেলিফোনে কথা হয়েছিল। তথন তিনি বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন।
“রাত আড়াইটার দিকে তানিমার  সঙ্গে কথা হয়। তার আকুতি এখনও আমার কানে ভাসে। সে বলছিল, ‘আমরা সবাই এখন বাথরুমে, আমাদের বের হওয়ার কোনো উপায় নেই, দোয়া করেন আমাদের যেন কষ্টে মৃত্যু না হয়’।”
৯০ বছর বয়সী কমরু মিয়া বছর খানেক আগে সপরিবারে গ্রিনফেল টাওয়ারে ওঠেন বলে জানান রহিম।
কমরুর বড় ছেলে আব্দুল হাকিম তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকেন। অন্য দুই ছেলে আব্দুল হামিদ, আব্দুল হানিফ ও মেয়ে তানিমা বাবা-মার সঙ্গে থাকেন।
তাদের কারও মোবাইল ফোনেই রাত আড়াইটার পর থেকে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে রহিম জানান।